• Thu October 23 2014
    • facebook fan page
    • twitter follow
    • google plus

BDTOKYONEWS

   •    আশুলিয়া আগুন: ১২৪ পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু

  • শর্তহীন আলোচনায় রাজি আছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
    বিএনপি কোন ধরণের পূর্ব শর্ত ছাড়া যদি আলোচনায় আসতে চায় তাহলে সরকার সে আলোচনায় যেতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তবে দলীয় কার্যালয়ে বোমা রেখে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘বিএনপি কোন ধরণের পূর্ব শর্ত ছাড়া আলোচনায় বসতে চাইলে আমরা সে আলোচনায় যেতে রাজি আছি। তবে দলীয় কার্যালয়ে বোমা রেখে কোন ধরণের ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব নয়।‘ বুধবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কোস্টাল ক্রাইসিস ম্যানেজম্যান্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। গত রোববার বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে তিনি বলেন,‘ওইদিন বিএনপিই সমাবেশের আগে বোমা বিষ্ফোরণ ঘটায়। তার প্রমাণ তাদের কার্যালয়ে তল্লাসী চালিয়েও বোমা পাওয়া গেছে।’--------উজ্জ্বল///////
  • আবারও খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল
    ঢাকা: ‘অপপ্রচার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের বাদ পড়া শিশুদের আবারও ভিাটমিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আর এর পাশপাশি খাওয়ানো হবে কৃশিনাশক ওষুধ এলবেনডাজল। তবে এ ওষুধ খাওয়াতে হবে ভরা পেটে। খালি পেটে খাওয়ালে সমস্যা দেখা দিতে পারে।’ ভিটামিন এ প্লাস ক্যপসুল ক্যাম্পেইন চলাকালে শিশু মৃতুর গুজবের পর বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: ক্যাপ্টেন (অব) মজিবুর রহমান ফকির এবং মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুল হক এসব তথ্য দেন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুল হকও এমনটি বলেছিলেন।-------উজ্জ্বল///////
  • নতুন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
    ঢাকা: নতুন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামী প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষে যে কোনো উদ্যোগকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”-------উজ্জ্বল/////

প্রথম পাতা

আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কালাইয়াতে যাএা শুরু করলো শাহেদা-গফুর-ইব্রাহীম জেনারেল হাসপাতাল

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার একটি অজপাড়া গাঁয়ের নাম কালাইয়া। যার চারপাশ নদী ও চর দ্বারা বেষ্টিত। এখানে বসবাসরত প্রায় ২০/৩০ হাজার মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্রতার কাছে অসহায়। তাই প্রায় সকল মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত এই মানুষগুলো। আর এই সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোর উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাউফল উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে জাপানের ডেমোত্র্যাটিক পার্টির পালামেন্টারী কমিটির অনারারী ডিরেক্টর এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও আরটিভির পরিচালক জনাব ফিরোজ আলম তার মা ও বাবার নামে এখানে প্রতিষ্ঠা করেন শাহেদা -গফুর- ইব্রাহীম জেনারেল হাসপাতাল। যা বর্তমানে ৩০ শষ্যা বিশিষ্ট হলেও ২০১৪ সাল নাগাদ এটা রূপ নেবে ১০০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। ২০০৭ সালে ২১মে প্রায় ৭ একর জমির উপরে এ হাসপাতালটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডাঃ এ. কে আজাদ খাঁন। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যায়ে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করা হয় এবং গত ১৯ এপ্রিল থেকে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয় ,বিনামূল্যে গরীব মানুষদের চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে। নিয়মিত চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি প্রতি শুক্রবার এখানে দেশের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা পরামর্শ ও জটিল রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে, যা এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে স্বপ্নের মত। এ হাসপাতালে রয়েছে উন্নতমানের জেনারেল বেড, কেবিন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অপারেশন থিয়েটার ও আইসিসিইউ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা চরমিয়া জানের সফুরা বেগম বলেন- আমাগো অসুখ বিসুখ হইলে ভাল ডাক্তার দেখাইতে পারতাম না, অহন এই পাসপাতাল হওয়ার ভাল ভাল ডাক্তার দেহানো যাইবো, সকল পরীক্ষা নিরিক্ষাও এখানে করা যাইবো, আর আমাগো ঢাকা বরিশাল যাইতে হইবেনা। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা জনাব ফিরোজ আলম বলেন, দূর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিংসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ হাসপাতালে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ওয়ার্ড। এছাড়া এ সব সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোকে আধুনিক সকল স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে খুব শিঘ্রই হালপাতালে চালু করা হবে একটি নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার যা এলাকার স্বা¯থ্য সেবা সহ কর্মসংস্থানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে তার বিশ্বাস। আর এই দু¯থ মানুষগুলোকে নিয়ে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি সকলের সহযোগীতা ও দোয়া কামনা করেন। শাহেদা -গফুর- ইব্রাহীম জেনারেল হাসপাতাল সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন HTTPS://WWW.FACEBOOK.COM/SAHEDAGAFURIBRAHIMGENERALHOSPITAL?REF=HL-------রাসেল////////////////

2013-05-30

জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা, উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

ঢাকা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ প্রবল বেগে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে। মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মহাসেনের প্রভাবে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলীয় এলাকার জনগণের মধ্যে। ইতিমধ্যে উপকূলের জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ-সাত ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের ২৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় মহাসেন সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে । এটি বুধবার সকাল ০৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম,কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম এবং মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল (১৬.০০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.০০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)। ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের কাছ দিয়ে খেপুপাড়া-টেকনাফ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের বর্ধিতাংশের প্রভাবে বুধবার রাত ১০টা থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। উপকূলীয় জেলা পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৫ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর ৭ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের মূল জেটিতে বন্দরের নিজস্ব তিন মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্দর সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, বন্দরের মূল জেটি ও মুরিংয়ে ২১টি জাহাজ আছে। তিন মাত্রার সতর্কতা অনুযায়ী, এসব জাহাজ এখন জোয়ারের সময় পর্যায়ক্রমে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, চ্যানেল নিরাপদ রাখতে জেটিতে থাকা সব জাহাজ সাগরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। সাগরে অবস্থানরত জাহাজের পক্ষে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করা সহজ হয়। জেটিতে থাকলে জাহাজের আঘাতে জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া চ্যানেলে কোনো জাহাজ ডুবে গেলে বন্দর অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।-----উজ্জ্বল////////////////////

2013-05-15

গণহত্যার বিচার হলে খালেদারই বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: ‘গণহত্যার’ জন্যে বিচার হলে খালেদা জিয়ার বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “দেশে যদি ‘গণহত্যার’ জন্যে বিচার হয়, তাহলে এর জন্যে খালেদা জিয়াই বিচার হবে। কারণ তিনি গাড়িতে আগুন দিচ্ছেন, মানুষ হত্যা করেছেন, গাড়ি ভাঙচুর করেছেন, ইতিপূর্বে গণহত্যা করেছেন।” বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সস্মেলন কেন্দ্রে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তার গণতন্ত্র ভালো লাগে না। তাই তিনি বিকল্প পথে ক্ষমতায় যেতে সেনাবাহিনীকে উসকে দিচ্ছেন। তার স্বামীও সেনাবাহিনীকে নিয়ে খেলেছিলেন। কিন্তু ভুলে যাবেন না, এটা ১৯৭৫ সাল নয়, এটা ২০১৩।” শেখ হাসিনা বলেন, “মানুষের রক্ত না দেখলে খালেদার জিয়ার ভালো লাগে না। তার রক্তপিপাসু চেহারা আজ জনগণের কাছে স্পষ্ট।” সেনাবাহিনী যাতে জাতিসংঘে যেতে না পারে সেজন্য খালেদা জিয়া লবিং করছেন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বের এক নম্বরে আছে। শান্তি রক্ষা মিশনে তারা সারা বিশ্বের জন্যে কাজ করছেন। জাতিসংঘের নীতিনির্ধারণীতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করছে।” জিয়াউর রহমানের হাতে সেনাবাহিনীর রক্ত- এমন মন্তব্য শেখ হাসিনা বলেন, “৭৭ সালের ক্যুতে ৬৬৫ জন বিমান বাহিনীর অফিসারকে হত্যাকরা সহ অসংখ্য সেনা সদস্যকে হত্যা করেছেন তিনি। পরে তিনিও এক ক্যুতে মারা গেছেন।” ‘খালেদা জিয়ার জন্ম ভারতে, এজন্য ওনার এ দেশের মাটির প্রতি ওনার টান নেই- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “উনার হৃদয়ে আছে পেয়ারে পাকিস্তান। এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলবেন না। মানুষকে পুড়িয়ে মারবেন না, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করবেন না। বাংলাদেশের মানুষকে আর কষ্ট না দিয়ে দয়া করে আপনার পেয়ারে পাকিস্তান চলে যান।” আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “কোন কোন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ হচ্ছে, কারা করছে তাদের খুঁজে বের করুন। মানুষের জানমাল রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এজন্য আমাদের যা যা করা দরকার তাই করব।” যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। ৭৫-পরবর্তী সময়ে জিয়া পরাজিত শক্তিকে নিয়ে এসেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চাইবেন এটা স্বাভাবিক।” খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তিনি তার স্বামীর স্বাধীনতার ঘোষণায় বিশ্বাস করেন, নাকি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করায় বিশ্বাস করেন? এর জবাব দিতে হবে।” আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, নূহ-উল আলম লেনিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীমসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। ----------------উজ্জ্বল////////////

2013-03-27

রাজনৈতিক বিষয়ে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ চাওয়া নজিরবিহীন: আশরাফ

সাভার: সেনাবাহিনীর হস্তক্ষপ সম্পর্কে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ চাওয়া দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। অন্যদেশ হলে খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতো।” মঙ্গলবার ভোরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আশরাফ। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, “বাংলাদেশ অদ্ভূত দেশ। সবকিছু বলেও পার পেয়ে যেতে পারবেন। মামলার বিষয়টা আসে না। কারণ, তিনি সব আইনের ঊর্ধ্বে। পৃথিবীর আর কেউ সব আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্যি, যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার জন্য প্রথম থেকেই বাংলাদেশের দুই দু’বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি হিংস্র ভূমিকা নিয়েছেন।” তিনি বলেন, “জামায়াতের এতো শক্তি বাংলাদেশে নেই যে তারা পুলিশ হত্যা করবে, সংখ্যালঘুদের হত্যা করবে বা যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করবে। এই শক্তি হলো বেগম খালেদা জিয়ার শক্তি।” যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে দেশবাসীকে আবারো ঐকবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান সৈয়দ আশরাফ। উল্লেখ্য, রোববার বগুড়া সফরকালে এক শোক সমাবেশে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “দেশে সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীরও দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে, যা তাদের পালন করতে হবে। সেনাবাহিনী সময়মত তাদের সে ভূমিকা পালন করবে। আমাদের সেনাবাহিনী বিদেশে শান্তি রক্ষায় কাজ করে। দেশের জন্যও তারা সময়মতো দায়িত্ব পালন করবে।” তার এই বক্তব্য বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচিত হয়।-----------------উজ্জ্বল////////////

2013-03-26

গণজাগরণ মঞ্চ থেকে সরকারের কঠোর সমালোচনা: নতুন কর্মসূচি

ঢাকা: আলটিমেটামের ৩৪ দিনেও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশে আন্দোলনের সমন্বয়কারী ডা. ইমরান এইচ সরকার জামায়াত নিষিদ্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, “জাগরণ মঞ্চের দাবিকে পাশ কাটিয়ে সরকার মূলত জনগণকেই অশ্রদ্ধা করেছে।” জামায়াত নিষিদ্ধ না করে সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ অবস্থায় এখন থেকে আরো জোরালো আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমরান এইচ সরকার। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ৩১ মার্চ সকাল ১১টায় শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে মিছিল নিয়ে সংসদ অভিমুখে যাওয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সংগৃহীত গণস্বাক্ষর জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর, ৪ এপ্রিল সকাল ১১টায় গণজাগরণ মঞ্চ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়া এবং ছয় দফা দাবিসম্বলিত স্মারকলিপি পেশ। একই দিন সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া। ৫ এপ্রিল বিকেল চারটায় শাহবাগ জাগরণ মঞ্চে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ৬ এপ্রিল বিকাল চারটায় গণজাগরণ মঞ্চে আবার সমাবেশ। ইমরান এইচ সরকার জানান, যতদিন পর্যন্ত তাদের দাবি আদায় না হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে জামায়াত নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরুর আলটিমেটাম দেয়া হয়। মঙ্গলবারের এ মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধা, যারা স্বাধীনতার ৪২ বছরকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের ৪২ জন তরুণের হাতে পতাকা তুলে দেন। আর এই ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধার হাতে প্রদীপ তুলে দেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার বলেন, “তরুণ প্রজন্ম সারা দেশে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তাতে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত।” মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে তারা পৌঁছুবেই বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছিলেন একাত্তরে পাক বাহিনীর হাতে নির্যাতিত ১৪ জন বীরাঙ্গনা। তারাও এ আন্দোলনে নিজেদের একাত্মতা ঘোষণা করেন। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা বীরাঙ্গনা সূর্য বানু বলেন, “আমরা আর বীরাঙ্গনা পরিচয়ে থাকতে চাই না।” বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানান তিনি। সমাবেশে বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের নেতা এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু জামায়াত প্রতিরোধে সবাইকে লাঠি-গজারি-বাঁশ নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এতদিন ছিল আন্দোলনের জাগরণ পর্ব। এখন শুরু হলো প্রতিরোধ পর্ব।” যেখানেই জামায়াত-শিবিরের লোক পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ার করে দেন। তবে আন্দোলনের সমন্বয়কারী ডা. ইমরান এইচ সরকার জামায়াত প্রতিরোধের ব্যাপারে এরকম কোনো দিকনির্দেশনা দেননি। তিনি বলেন, “এই আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদী। সুতরাং আন্দোলনের কোনো পর্বে এসে বলা সম্ভব নয় যে, এটিই চূড়ান্ত।” এই আন্দোলন ধীরে ধীরে কঠোর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একাত্তরে মানবতাবিরোধী দায়ে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে তরুণ প্রজন্ম। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তারা শাহবাগে জমায়েত হয়ে আন্দোলন শুরু করে যা ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার আন্দোলনের ৫০তম দিনে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা এলো। ------------উজ্জ্বল/////////////

2013-03-26

নতুন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: নতুন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামী প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষে যে কোনো উদ্যোগকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।” শিশুদের বিনোদনের জন্য চলচ্চিত্র নিমার্ণ করার অহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের প্রধান শহরগুলোতে শিশুদের বিনোদনের জন্য কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। তাই আপনাদের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাদের বিনোদন ও মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন রাখতে পারে।” চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নতুন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে হারানো দর্শকদের সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা শুধু ব্যবসার দিকটা না দেখে রাষ্ট্র ও সমাজ উপকৃত হয় এ ধরনের চলচ্চিত্রের দিকে দৃষ্টি দিন।” সমাজ সংস্কার মূলক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যও আহ্বান জানান তিনি। জাতি গঠনে চলচ্চিত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের এ শিল্পের কথা মাথায় রাখতে হবে আমাদের সবার। চলচ্চিত্রকে আরো গতিশীল ও সময় উপযোগী করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এজন্য সরকার ৩ এপ্রিলকে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র বিভাগ চালু করেছে।” এফডিসির উন্নয়নে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল ও বিশ্বে দরবারে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে আরো যা যা দরকার সরকার তাই দেবে।” পরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ বছর মোট ২৭টি শাখায় এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, “ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রের রাজধানী হবে ঢাকা। তাই মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন।”-------উজ্জ্বল//////////

2013-03-13

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসী হামলায় জনসংহতির ৪ জন নিহত

রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসী হামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) গ্রুপের চারজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সূদীর্ঘ চাকমা (৩৭), জীবন চাকমা (৩৫), জ্ঞানেন্দু চাকমা (২৪) ও সুকেন চাকমা (২৪)। আহত হলেন আলো চাকমা (২৪)। স্থানীয় এলাকাবাসী,পুলিশ এবং সেনাসূত্র জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে লংগদু ও দীঘিনালা উপজেলার মধ্যবর্তী দোজরপাড়া এলাকায় সাংগঠনিক কাজে যান। সেখানে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করলে ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যায়। এ সময় আরো একজন আহত হয়। লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল হক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে দিকে রওনা হয়েছে। এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)’র কেন্দ্রীয় নেতা প্রশান্ত চাকমা জানান, মঙ্গলবার জনসংহতি সমিতির সন্ত্রাসী হামলায় তাদের চারজন নেতা নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সন্তু লারমা সমর্থিত জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছেন। তবে জনসংহতি সমিতির মুখপাত্র সজীব চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জনসংহতি জড়িত নয়।” --------------উজ্জ্বল///////////////

2013-03-12

প্রধানমন্ত্রী-বিরোধী দল প্রধানকে আলোচনায় বসার আহ্বান টিআইবি'র

ঢাকা: দেশের সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সনকে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার বিকেলে এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,‘‘ক্রমবর্ধমান সংঘাত, বিশৃঙ্খলা এবং উচ্ছৃঙ্খলতা গভীর উদ্বেগজনক, দুঃখজনক এবং যে কোনো মানদণ্ডেই অগ্রহণযোগ্য। এ সকল ঘটনার মূলে রয়েছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যেখানে জনস্বার্থ এবং নাগরিকের জীবন ও জীবিকার মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে শিশু, নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও পশ্চাদপদ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার এবং নিরাপত্তা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়।” ‘‘এই নেতিবাচক, সংঘাতময় ও আত্মঘাতী রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করে সংযম ও গণতান্ত্রিক আচরণে ফিরে আসতে ব্যর্থ হলে তা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে” বলে মন্তব্য করেন টিআইবি নির্বাহী পরিচালক। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সংঘাতমূলক সহিংস এবং আগ্রাসী রাজনৈতিক খেলার পরিণতির কথা স্থিরচিত্তে বিবেচনা করার আহ্বান জানাই। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, দুই বৃহত্তম দলের অবিসংবাদিত নেতা, জনগণের পক্ষে, জনস্বার্থেই রাজনীতিতে জড়িত।’’ তিনি বলেন, “অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাই পারেন জনগণের তথা জাতীয় স্বার্থকে পারস্পরিক বিভেদ, দ্বন্দ্ব ও আস্থাহীনতাসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে সংঘাতময় অবস্থান থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক আচরণের দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনার টেবিলে সমাধান বের করতে। গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি অঙ্গীকার প্রদর্শনে সংলাপ শুরু করার ক্ষেত্রে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।” আর গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় যে কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই।” বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অগণতান্ত্রিক ভাষা এবং আচরণের কাছে রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমান্বয়ে কুক্ষিগত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক এবং এর ফলে তা জনগণের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। বিশেষত, তরুণদের কাছে যারা যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির সর্বজনীন দাবিতে কী করে শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করা যায় তা শাহবাগ তথা সারাদেশে দৃষ্টান্তমূলকভাবে প্রদর্শন করছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহিংস পদ্ধতির অবসানে ব্যর্থ হলে তা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় কঠোরতম প্রতিবন্ধক হিসেবে আবির্ভূত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্যমান দ্বন্দ্বের মূলে যেহেতু রয়েছে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, সেহেতু সেই নির্বাচন যেন উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে তার জন্য সমঝোতামূলক অবস্থান নিরূপণে আমরা দুই নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই। বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক বিদ্বেষ এবং অবিশ্বাস অবসানের উপায় দুই নেত্রীর হাতেই রয়েছে বিধায় সামগ্রিক সমাধান তাদেরই বের করতে হবে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,‘‘রাজনৈতিক প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে হরতালের অধিকার অপপ্রয়োগের কারণে জনজীবনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাসহ মৌলিক অধিকার যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য আইনি বাধ্যবাধকতামূলক একটি হরতাল সংক্রান্ত আচরণবিধি গ্রহণ ও প্রয়োগের জন্য আমরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাই।” -------------উজ্জ্বল///////////

2013-03-12

কাদের মোল্লার ফাসিঁর দাবিতে শাহবাগে জনতার ঢল

রাজধানীর সব পথ গিয়ে মিশেছে শাহবাগ মোড়ে। সময় যতই গড়াচ্ছে, প্রতিবাদী আন্দোলনকারীদের সমাগম বেড়েই চলছে। সেখানে নেমেছে জনতার ঢল। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচি পালনে জড়ো হয়েছে সর্বস্তরের হাজারো মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও এই আন্দোলনে শামিল হতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শাহবাগ মোড়ে তীরন্দাজ নাট্যদলের কর্মীরা প্রতিবাদী পথনাটক মঞ্চস্থ করেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকায় জুতাপেটা ও পরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান শাহবাগে গিয়ে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা যা করতে পারিনি, এ তরুণ প্রজন্মই তা করে দেখাবে। সে বিশ্বাস আমাদের আছে। এবং তারা তা করে দেখিয়েছে।’ বেলা তিনটার দিকে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘রক্তের দামে কেনা এই বাংলাদেশ। আজ যখন তোমাদের দেখি, তখন মনে হয়, আমি এক নতুন বাংলাদেশ রেখে যাচ্ছি। এই অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না। রাজাকারেরা ফাঁসিতে ঝুলবে। জামায়াত-শিবির নিশ্চিহ্ন হবে।’ জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইডেন কলেজ, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক ফুটবালার ও ক্রিকেটাররাও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবাদের রাত: রায় প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার বিকেলেই শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিল ব্লগার ও ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষ তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। সন্ধ্যায় প্রজ্বলিত মোমবাতি ও মশালের আলোয় শাহবাগে সৃষ্টি হয় প্রতিবাদী আবহ। বিক্ষোভকারীরা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। ছিল প্রতিবাদী গান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। রাত একটার দিকে ওই দিনের মতো কর্মসূচি শেষ করে বুধবার সকাল সাতটায় আবার শাহবাগে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেন উদ্যোক্তারা। তবে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধারণ মানুষ এই সময় জানান, তাঁরা সারা রাত এখানেই থাকবেন। রাতেই কাদের মোল্লার প্রতীকী ফাঁসি দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর পর আরও কয়েক দফায় তাঁকে প্রতীকী ফাঁসি দেওয়া হয়। এ সময় তরুণ-তরুণীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় প্রতিবাদী গান। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে অনেক ছাত্র পেপার-কম্বল নিয়ে জড়ো হন শাহবাগে। দুটি বড় পর্দায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে রাতভর চলে প্রতিবাদী গান। যানবাহন চলাচলে বাধা প্রতিবাদ আন্দোলনের কারণে যান চলাচল বন্ধ রাখতে চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে, আজিজ সুপার মার্কেট, রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে ও শিশুপার্কের সামনে কাঁটাতারের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে পুলিশ। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তায় এ বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল না করতে রাজধানীবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।-------------উজ্জ্বল/////

2013-02-07

আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, `দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশকে এগিয়ে নেওয়া ও দেশের কলঙ্ক মোচনের জন্য আবারও নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করুন। আমাদেরকে আবার দেশের সেবা করার সুযোগ দিন।` চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পাইলট হাইস্কুল মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিকেল সোয়া চারটার দিকে বক্তৃতা শুরু করে ৪টা ৪৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হয়। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আপনারা আমাদের ভোট দিয়ে জয়ী করেছিলেন। আমরা উন্নয়নের ধারা সূচিত করেছি। ২০১৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উন্নয়নের ধারা ‍অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করুন।` প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন কিনা প্রশ্ন করলে জনতা হাত তুলে এতে সম্মতি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, `বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেছেন ক্ষমতায় আসলে দেশের চেহারা বদলে দেবেন। তিনি আসলে আমরা যে উন্নয়ন করেছি সেসব উন্নয়ন কর্মকান্ড বন্ধ করে দেবেন। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের যে কর্মসূচি চালু করেছি তা বন্ধ করে দেবেন।` তিনি বলেন, `আমরা যেসব বন্ধ মিল কারখানা চালু করেছি সেগুলো আবার বন্ধ করে দেবেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। দেশে আবার সন্ত্রাস-দুর্নীতি ফিরে আসুক বিরোধী দলীয় নেত্রী এটাই চান।` প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের চার বছরের উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত চার বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের অনেক উন্নয়ন করেছে। বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছি। শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। শ্রমিকদের বেতন প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, `আমাদের আমলে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করতে শুরু করেছে। পাসের হার ৪০ শতাংশ থেকে ৮৬ ভাগে উন্নীত হয়েছে।` প্রধানমন্ত্রী বলেন, `আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। আমরা যখন দেশের দায়িত্ব নিই, তখন দেশে ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর তিন কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করেছি। আমরা বেকার যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। তাদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক চালু করেছি। এ ব্যাংক থেকে বেকার যুবকেরা কোনো জামানত ছাড়াই ১ লাখ টাকা ঋণ পেতে পারে।` এছাড়া নিঃস্ব-অসহায় মানুষের জন্য আশ্রায়ণ প্রকল্প চালু করেছি। এ প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গুনিয়ায় ৫০০ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।` আওয়ামী লীগকে জনগণের সরকার আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, `আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে মানুষের জন্য কাজ করতে আর বিএনপি আসে দেশের সম্পদ লুটপাঠ করে খেতে। বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় ছিলেন। দুর্নীতি করে এত টাকা কামিয়েছেন যে তাকে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করতে হয়েছে।` প্রধানমন্ত্রী বলেন, `বিরোধীদলীয় নেত্রী আসলে চান না আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখা শিখুক। তিনি নিজে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উর্দু-বাংলা ও অংক ছাড়া আর কোনো বিষয়ে পাস করতে পারেননি। নিজের ছেলেদের পড়ালেখার জন্য সরকারের কাছ থেকে প্রতিমাসে দেড় হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন। আমি প্রশ্ন করতে চাই, তিনি তার ছেলেদেরকে কী পড়ালেখা শিখিয়েছেন, কী ডিগ্রি দিয়েছেন?` প্রধানমন্ত্রী বলেন, `তার ছেলেদের একজন মানি লান্ডারিং ও দুর্নীতির এবং আরেকজন ড্রাগ নেওয়ার ডিগ্রি নিয়েছেন। উনি যেহেতু পাশ করতে পারেননি,তাই আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখা করুক তিনি তা চান না।` শেখ হাসিনা বলেন, `আমরা বন্ধ কল-কারখানা চালু করেছি। কর্ণফুলী ফোরাত কার্পেট মিল ও কর্ণফুলী জুট মিল চালু করেছি। এই দু’টি কারখানায় দুই হাজার কর্মী কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া গত চার বছরে ৪ লাখ লোককে সরকারী চাকরি দিয়েছি। তাদের এখন সুদিন ফিরে এসেছে।` কৃষকদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, `সরকার কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছে। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষক ঋণ নিতে পারে এখন।` জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, `আমরা দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫ হাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করেছি।` সমুদ্র বিজয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলায় জয়ী হয়ে সমুদ্রে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। এক লাখ ১১ হাজার ৬৭০ বর্গমাইল সমুদ্র জয় করেছি।` নৌকা মার্কা জনগণের মার্কা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, `নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণ দেশের স্বাধীনতা পেয়েছে। ১৯৯৬ সালে ভোট দিয়ে মানুষের আত্মসামাজিক উন্নতি হয়েছিল।` তিনি বলেন, `২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ১৯৭১এ যারা আমাদের মা-বোনকে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল, গণহত্যা করেছিল, কোলের শিশুকে বেয়নেট খুঁচিয়ে হত্যা করেছিল সেসব গণহত্যাকারীদেরকে রক্ত অর্জিত পতাকা তুলে দিয়েছিল বিএনপি।` মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, `আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গণহত্যাকারীদের বিচার শুরু করেছে। রায় দেওয়া শুরু হয়েছে। একজনের রায় হয়েছে। ইনশাল্লাহ বাকী রায়ও পাব। বিএনপি ‍বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে কলঙ্ক লেপে দিয়েছিল তা গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করে রাহুমুক্ত করব।` ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে গণহত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, `৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদিঘীর মাঠে ৩০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। যে পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে এ হত্যাকান্ড হয়েছিল, তার বিচার এরশাদ করেনি আর খালেদা জিয়া তাকে প্রমোশন দিয়েছিল।` রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র খলিলুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড.হাসান মাহমুদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা.আফছারুল আমিন,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এবিএম আবুল কাশেম মাষ্টার, নূরুল ইসলাম বিএসসি ও চেমন আরা তৈয়ব, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামীম ও এটিএম আমিনুল ইসলাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমুখ।------------উজ্জ্বল/////////

2013-01-26

পোশাক কারখানায় আগুন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার তিন রাস্তার মোড়ের খান মার্কেটের ২য় তলার একটি পোশাক কারখানায় শনিবার বিকেল ৩টায় ফের আগুন লেগে ৭ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় আরও ১৫ শ্রমিক আহত ও অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।নিহত এক শ্রমিকের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকি ৫ শ্রমিকের লাশ শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। তারা ধোঁয়ায় অচেতন ও ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন বলে প্রাথমিক খবরে জানা গেছে। জানা গেছে, আগুন থেকে বাঁচতে দোতলা থেকে লাফিয়ে ৭ থেকে ৮ জনসহ মোট ১৫ জন আহত হয়েছেন। এবিষয়ে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আ. হালিম জানান রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার তিন রাস্তার মোড়ের খান মার্কেটের ২য় তলায় শর্ট সাকিটের কারণে স্মার্ট ফ্যাশন পোশাক কারখানায় আগুন লাগে। এসময় ধোঁয়ায় এবং ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মোট ৬ জন নিহত এবং ১৫ জন শ্রমিক অসুস্থ ও আহত হন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে জোছনা (২০) নামে এক শ্রমিক মারা গেছেন। তিনি মোহাম্মদীয়া হাউজিংয়ে থাকতেন। তার বাড়ি ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিনে। তার বাবার নাম কাওছার। এছাড়া আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অপরদিকে,শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি ইউনিটের সামনে রাখা হয়েছে পাঁচজনের লাশ। এরা হলেন- ঝালকাঠির রাজাপুর থানার কালুদাস কাঠি গ্রামের আলফাজের মেয়ে রাজিয়া (১৫), অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরী (১৫), বসিলা বস্তির জাবেদ হোসেনে মেয়ে কোহিনুর (১৫), ভোলার বোরহান উদ্দিন থানার চর গাজীপুর গ্রামের আজিজুল হকের মেয়ে নাসিমা (৩০) ও বোরহান উদ্দিন থানার দেউলা গ্রামের নয়া মিয়ার মেয়ে নাসিমা (১৭)। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডে মোট ১শ ১২ জন মারা যান। এতে কারখানাটির ৯ তলা ভবনের ৬ তলা পুড়ে যায়। এঘটনার জন্য ২৭ নভেম্বর দেশে শোকদিবস পালন করা হয়। এঘটনায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।------উজ্জ্বল

2013-01-26

তেল মারতে ভারত গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া: প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে অন্ধ হয়ে খালেদা জিয়া ভারতে ‘তেল মারতে’ গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে তিনি সেখানে টিপাই মুখ বাঁধ ও সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবি করতেই ভুলে গেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় থাকলে ভারত প্রীতি বাড়ে, আর বিরোধী দলে গেলে ভারত বিরোধিতার নীতি গ্রহণ করেন। কিন্তু, ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে অন্ধ হয়ে এবার তিনি আগেভাগেই ‘তেল মারতে’ ভারতে গিয়েছিলেন।” ‘বিরোধী দলীয় নেত্রী ক্ষমতায় গেলে দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন’ এ উদ্ধৃতি করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি প্রশ্ন করতে চাই, তারা কিভাবে দেশকে পাল্টাবেন? আওয়ামী লীগ যে দশ ভাগ দরিদ্র কমিয়েছে, তাদেরকে আবার দরিদ্র বানিয়ে দেবেন? ৫ কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ মধ্যবিত্ত হয়েছে, তাদেরকে আবার নিম্নবিত্তে পরিণত করবেন?” তিনি আরও বলেন, “৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে বাড়িয়ে বর্তমান সরকার ৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। আপনারা কি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেশকে অন্ধকার করে পাল্টে দেবেন? নাকি বিনামূল্যের বই দেওয়া বন্ধ করে দেশের লাখ লাখ ছেলে মেয়েদের অশিক্ষিত করে রাখবেন?” তিনি যশোরকে ডিজিটাল জেলা ঘোষণা করে বলেন, “এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে আওয়ামী লীগ সরকার গোটা দেশকেই ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করবে। মোবাইল ফোনের মত হাতে হাতে কম্পিউটার পৌঁছে দেওয়া হবে। সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা। ঘরে বসেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, সচিবালয় থেকে জেলা প্রশাসনের সব অফিসের সব সেবা মানুষ গ্রহণ করতে পারবেন।” প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালের নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সব সময়ই আন্তরিক। এ অঞ্চলের অন্যতম সঙ্কট- ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর করা হচ্ছে। কপোতাক্ষ খননে আড়াইশ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যশোরে বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। বেনাপোল স্থল বন্দরের উন্নয়ন করে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।” এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, পরবর্তী মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি-বেসরকারি খাতে ৮০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪ লাখ বেকারকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। যুব ও যুব মহিলারা যাতে চাকরির পেছনে না ছোটে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারে সে জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ঋণও দেওয়া হচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, “বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক ও নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে বই সরবরাহ করছে। এ বছর পহেলা জানুয়ারি ২৭ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। আর কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে আওয়ামী লীগ স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া একদিকে জামায়াত শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় হরতাল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করছেন। তার ওই মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা শোভা পায় না। বিএনপির লুটপাট ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া সরকারি কোষাগার থেকে দুই ছেলের লেখাপড়ার জন্য টাকা নিয়ে তাদেরকে দুর্নীতির ডিগ্রি দিয়েছেন। হাওয়া ভবন খুলে মানি লন্ডারিং, টাকা পাচার, লুটপাট আর কমিশন বাণিজ্য করেছেন। তার এক ছেলের পাচার করা টাকা সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, আমেরিকায় তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে ৬ বছর জেল ও ৩৬ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। আর তিনি নিজেই এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। আবার তিনিই বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সবাই চোর। একেই বলে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০১-এ আওয়ামী লীগ ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রেখে ক্ষমতা থেকে গিয়েছিল। আর বিএনপি যখন ক্ষমতা ছেড়েছে তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ না দিয়ে খালেদা জিয়ার ছেলে মানুষকে খাম্বা দিয়েছে আর লুটপাট করেছে।” প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার। এ কারণে হলমার্ক, ডেসটিনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ বিশ্বব্যাংক দিতে পারেনি। তারা বলেছে, দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে। আর টাকা বন্ধ হয়েছে, তার (খালেদা জিয়া) সময়ের দুর্নীতির কারণে।” ২০০১ নির্বাচন পরবর্তী সময়ের কথা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে যশোরসহ এ অঞ্চলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ছাড়াও যে সন্ত্রাস ও অত্যাচারের রাজত্ব কায়েম করেছিল মানুষ তা ভুলে যায়নি।” প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার দেওয়ার আহ্বান জানান। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, জাতীয় সংসদের হুইপ শেখ আব্দুল ওহাব, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন অর রশিদ, সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো, খান টিপু সুলতান ও রণজিৎ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার প্রমুখ। জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ই সার্ভিসের উদ্বোধন এবং শহরের বকুলতলায় নির্মিত বঙ্গবন্ধুর সর্ববৃহৎ ম্যুরাল উদ্বোধন করেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে যশোর বিমানবাহিনীর মতিউর রহমান ঘাঁটিতে ২৩তম শীতকালীন গ্রাজুয়েশন প্যারেড পরিদর্শন ও নবীন ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ এবং সালাম গ্রহণ করেন।----------উজ্জ্বল////////

2012-12-20

‘হাসান-হোসেন নজরদারিতে’

পদ্মা প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মামলায় আসামি করা না হলেও সাবেক দুই মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবুল হাসান চৌধুরীর ওপর দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরদারি রয়েছে। মামলার তিন দিন পর বৃহস্পতিবার দুদক কমিশনার মো. বদিউজ্জামান এই তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাবেক দুই মন্ত্রীর গতিবিধি দুদকের নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রয়েছে।” বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তোলার প্রেক্ষাপটে আবুল হোসেন ও আবুল হাসানসহ ২৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাতজনকে আসামি করে মামলা করে দুদক। আসামির তালিকায় নাম না থাকলেও মামলার এজহারের বর্ণনা রয়েছে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসানের নাম। তাদের নাম না রাখার ব্যাখ্যায় দুদকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রে তাদের ভূমিকার বিষয়ে অনুসন্ধানে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়নি। তবে মামলার তদন্তের সময় সাবেক দুই মন্ত্রীর ভূমিকা আরো খতিয়ে দেখা হবে বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মামলায় সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়াসহ সাতজনকে আসামি করেছে দুদক। তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। দুদক কমিশনার বদিউজ্জামান বৃহস্পতিবার বলেন, গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত অভিযুক্তদের পলাতক আসামি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। “আসামিদের মধ্যে যারা দেশে রয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনো আমরা সাফল্য পাইনি। গ্রেপ্তারের আগ পর্যেন্ত তাদের পলাতক আসামি হিসেবে বিবেচনা করবে দুদক।” প্রধান আসামি মোশাররফ বৃহস্পতিবার জামিনের আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে যান। তবে তা গ্রেপ্তারে বাধা হবে না বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (নদী শাসন) কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালটেন্ট লিমিটেডের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশে কানাডীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের স্থানীয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোস্তফা, এসএনসি-লাভালিনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, এই সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহ ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেসকে আসামি করা হয়েছে। ----------উজ্জ্বল////////

2012-12-20

যুদ্ধাপরাধের বিচার আগামী বিজয় দিবসের আগেই

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার আগামী বিজয় দিবসের আগেই শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আজ রোববার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সৈয়দ আশরাফ এ কথা বলেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে এ কথা জানানো হয়। সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার ইনশাল্লাহ আগামী বিজয় দিবসের আগেই হবে। রায়ও কার্যকর করা হবে।’ এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নয়জন নেতার বিচার চলছে। ---------উজ্জ্বল

2012-12-16

শাকিল ৮ দিনের রিমান্ডে

বিশ্বজিৎ দাস হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিলকে আট দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক তাজুল ইসলাম হাকিম আদালতে শাকিলকে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. এরফান উল্লাহ শাকিলকে আট দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। রিমান্ড প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ ডিসেম্বর পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আসামি শাকিল বিশ্বজিৎ দাসকে চাপাতি দিয়ে কোপান, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও ভিডিওচিত্র দেখে শনাক্ত করা হয়। এর আগে এই মামলায় নয় জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এত দিন শাকিল পলাতক ছিলেন। গতকাল শনিবার সকালে বরগুনা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে শাকিলসহ ছয়জনকে রিমান্ডে নেওয়া হলো।---------উজ্জ্বল

2012-12-16

বেসরকারি খাতের সামর্থ্য কাজে লাগাতে চাই’

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে আরো বেগবান করতে সরকার বেসরকারি খাতের সামর্থ্যকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকালে হোটেল রূপসী বাংলায় পিপিপি গ্লোবাল ইনভেস্টরস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে রয়েছে একটি গতিশীল বেসরকারী খাত। যারা সৃষ্টিশীলতা, সময়োপযোগী খাপ খাওয়ানো ও ঝুঁকি মোকাবেলায় দক্ষ হিসেবে বিশ্বের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।” “সরকার দেশের অগ্রগতিকে আরো বেগবান করতে, জনগণকে আরো বেশি সেবা দিতে ও বেসরকারি খাতের সামর্থ্য পুরোপুরি কাজে লাগাতে তাদের সাথে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করতে চায়”, বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন যুগের সূচনা হবে- এমন আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার এ ধরনের উদ্যোগে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী গত কয়েক বছরে অর্থনীতি ও বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের বিষিয়গুলো তুলে ধরেন এবং দেশের সম্ভাবনার কথা বিনিয়োগকারীদের জানানোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, “দেশে বাণিজ্য বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জানানোর এটাই উত্তম সময়।” বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এ সম্মেলনের আয়োজন করায় পিপিপি অফিস ও বিনিয়োগ বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান তিনি। গত কয়েক বছরের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব বাংলাদেশকে বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের নামকরা সংস্থাগুলো সম্প্রতি বলেছে যে এই অঞ্চলে বাংলাদেশ পরবর্তী প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত হবে। এ জন্য আমরা গর্বিত।” তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে সিএনবিসি বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি অর্জনে পঞ্চম শীর্ষ দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত এইচএসবিসির ‘২০৫০ সালে বিশ্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছয়গুণ বৃদ্ধি পাবে। গত চার বছরে দেশের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৬৩০ ডলার থেকে বেড়ে ৮৫০ ডলার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিটিগ্রুপ বাংলাদেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও লাভজনক বিনিয়োগের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। গোল্ডম্যান শ্যাস বাংলাদেশকে ‘ব্রিক’ এর পর ‘পরবর্তী এগারো’ তে অন্তর্ভুক্ত করেছে। জেপি মরগান বাংলাদেশকে ‘ফ্রন্টিয়ার ফাইভ’ ভুক্ত করেছে। বিনিয়োগ সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের উপরে বাংলাদেশের অবস্থান।” বিশ্বমন্দার মধ্যেও গড়ে প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর’স ও মুডিসের ঋণমান সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান স্থিতিশীল থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পিপিপি আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে অর্থমন্ত্রী পিপিপি কর্মসূচির সার্বিক দেখভাল করবেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচনসহ অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ‘রূপকল্প ২০২১’ এর লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা উন্নয়নের সঠিক পথে এগুচ্ছি। তাই বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের লক্ষ্য অর্জনে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বর্তমানে জিডিপির ২ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছি।” বিনিয়োগ বাড়াতেই সরকার পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এতে জাতীয় বাজেটের ওপর তেমন চাপ পড়বে না। আবার জনকল্যাণও নিশ্চিত হবে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ৭৫ শতাংশ বিনিয়োগ পিপিপির মাধ্যমে করার পরিকল্পনার কথাও সরকারের কাছে তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, লাগসই পিপিপি প্রকল্প তৈরির জন্য একটি পৃথক পিপিপি অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এ কার্যালয়ের গতিশীলতা বাড়াতে একে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এ সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, বাস্তবায়নকারী, উন্নয়ন অংশীদার, ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীরা পিপিপি প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করবেন। যেগুলো পিপিপি কর্মসূচিকে আরো কার্যকর করতে অবদান রাখবে।” বক্তব্যের শেষে মঞ্চে রাখা একটি ক্রিস্টাল বলে হাত রেখে পিপিপি গ্লোবাল ইনভেস্টরস ফোরামের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাগুলোর প্রশংসা করে বলেন, “এখানে বিশ্বমানের কাজ হয়।” বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকারকে বহুমুখী ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান গোল্ডস্টেইন। তিনি বলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও পিপিপির ভিত্তিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর এ বিষয়ে বক্তব্য দেন পিপিপি অফিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এ এইচ উদ্দিন। সমাপনী বক্তব্য দেন বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ এ সামাদ। অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি, এফবিবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজদ, এডিবির বাংলাদেশ প্রতিনিধি তেরেজা খো, আইডিবির প্রতিনিধি ইকবাল করিম, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ----------উজ্জ্বল////////

2012-12-07

বাধা দিলেই ফের কর্মসূচি: মওদুদ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দিলে সেখান থেকেই আবার কর্মসূচি দেয়া হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন মওদুদ আহমদ। শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “রোববারের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকার পতন আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে যাওয়া হবে।” “তাই সরকারকে বলব, অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না। বাধা দিলে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা কর্মসূচি দেয়া হবে। বরং অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিন”, বলেন মওদুদ। নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে রোববার সারাদেশে রাজপথ অবরোধের এই কর্মসূচি দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া গত ২৮ নভেম্বর নয়া পল্টনের জনসভা থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার জানান, ভোর ৬টা থেকে ৮ ঘণ্টার এই অবরোধ কর্মসূচিতে দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়ক ও সড়কগুলো অবরোধ করবে ১৮ দলীয় জোট কর্মীরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সচল সংসদ ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মওদুদ আহমদ বলেন, এই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সংঘাত সৃষ্টি করা হলে তা সরকারের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনবে। ক্ষমতাসীনরা সংঘাত চাইলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সরকারকে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহাল চাই। এই দাবি সরকারকে মানতে হবেই। দেশে একদলীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।” পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে সরকারও জড়িত অভিযোগ করে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশন পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের জড়িত ব্যক্তিদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করছে। এতে লাভ হবে না।” “আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, বর্তমান সরকারের পতনের জন্য পদ্মাসেতুর দুর্নীতিই হবে মরণফাঁদ”, বলেন তিনি। গণমাধ্যমে আসা খবরের বরাত দিয়ে মওদুদ দাবি করেন,“এই সেতু নির্মাণের অর্থ থেকে সরকার সর্বমোট দুই হাজার ৪শ কোটি টাকা ঘুষ খেতে চেয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সজাগ দৃষ্টির কারণে তা ব্যর্থ হয়ে গেছে। প্রথম দফায় তারা কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে তিনশ ২০ কোটি টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ধরা পড়ে গেছে।” দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে ‘প্রধানমন্ত্রীর দেশপ্রেমিক’ আবুল হোসেন ‘ধরা পড়ে গেছেন’ বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ। তিনি বলেন, “এখন কাকে বাদ দেবে, কাকে অভিযুক্ত করবে- এ নিয়ে সরকারের এজেন্ট হিসেবে স্বীকৃত দুর্নীতি দমন কমিশন দরকষাকষি করছে। তারা সৈয়দ আবুল হোসেনসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে।” ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংসদ নিলুফার চৌধুরী মনি, সাবেক সাংসদ মাস্টার এম এ মতিন, হেলেন জেরিন খান, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকালে বিএনপিপন্থী সংগঠন আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটি ও জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে দুটি মানববন্ধন হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া ও বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রোববারের অবরোধ কর্মসূচি সফল করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এসব মানববন্ধন কর্মসূচি বক্তব্য দেন। ----------উজ্জ্বল////////

2012-12-07

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে অর্থমন্ত্রীর তাগিদ

র্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ‘সাশ্রয়ী’ হতেও সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে গেছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়াতে হবে, নইলে তা (প্রবৃদ্ধি) ব্যহত হবে।” “বিদ্যুতের অভাবে মানুষের কষ্ট ও দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে- এ অবস্থা থেকে আমরা সরে এসেছি। আগামী দুই বছর পর বিদ্যুৎ সঙ্কটে উন্নয়ন ব্যহত হবে তা হতে দিতে পারি না”, যোগ করেন তিনি। প্রতি বছর ৭ থেকে ১১ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ সপ্তাহ হিসাবে পালন করে সরকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। সুইজারল্যান্ড ও জাপানকে অনুকরণ করতে হবে। এরা মিনিমাম বিদ্যুৎ দিয়ে মাক্সিমাম সার্পোট নেয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমেরিকাকে অনুকরণ করলে হবে না।” পাশ্ববর্তী দেশ ভুটান, নেপাল, ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। মুহিত জানান, সরকার ২০১৩ সালে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট, ২০১৫ সালে সাত হাজার মেগাওয়াট এবং ২০২০ সালে বিশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। বিদ্যুৎ ব্যবহারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসে গেছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনই সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। ২০১৫ সালে এটা ১২ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০১৭-১৮ সালের মধ্যেই এটা ২০ হাজার মেগাওয়াট হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যনুযায়ী, দেশে ছয় হাজার ছয়শ মেগওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে পাঁচ হাজার সাতশ থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। চলতি বছরের ৪ অগাস্ট সর্বোচ্চ ছয় হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়। বর্তমানে ৬০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তাপস কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চোধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব আবুল কালাম আজাদ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন প্রমুখ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

2012-12-07

বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়

আনামুল হকের প্রথম শতকের সৌজন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সহজেই ১৬০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে নিজেদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের এই জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে স্বাগতিকরা। বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডে। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৯২ রান করে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০০৯ সালে ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে ৭ উইকেটে ২৭৬ রান করে তারা। জবাবে ৩১ ওভার ১ বলে ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ভেন্যুতে এটি বাংলাদেশের টানা চতুর্থ জয়। এইম মাঠে এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ানডে হারেনি তারা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সোহাগ গাজীর আঁটোসাটো বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেন নি লেন্ডল সিমন্স ও ক্রিস গেইল। দলীয় ১১ রানে সোহাগের বলে তামিম ইকবালের হাতে ধরা পড়ে সিমন্সের বিদায়ে শুরুতেই চাপে পড়ে অতিথিরা। বাংলাদেশ সফরে নিজের ছায়া হয়ে থাকা গেইলকে (১৫) হতাশ করেছেন মাশরাফি। বিপজ্জনক এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। ৩২ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেটে মারলন স্যামুয়েলসের (১৬) সঙ্গে ৩১ রানের ছোট্ট একটা জুটি গড়েন ড্যারেন ব্রাভো। আগের ম্যাচে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করা স্যামুয়েলকে এবার মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করে স্বাগতিদের তৃতীয় সাফল্য এনে দেন সোহাগ। পরের ওভারে ডোয়াইন স্মিথকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করা আব্দুর রাজ্জাক অতিথিদের আরো বড় ধাক্কা দেন ১৯তম ওভারে। সেই ওভারে তিন বলের মধ্যে ব্রাভো (২৮) ও ডেভন মাসকে (০) সাজঘরের প দেখান তিনি। ৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে যাওয়া অতিথিদের স্বপ্ন তখনো টিকে ছিল উইকেটে কাইরন পোলার্ড (২৫) ছিলেন বলে। কিন্তু দলীয় ১১১ রানে নাঈম ইসলামের বলে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি বোল্ড হয়ে গেলে অতিথিদের বড় হার নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর আন্দ্রে রাসেল ৯ ও সুনীল নারায়ণ অপরাজিত ১০ রান করলেও দেড়শ পর্যন্ত যেতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি অতিথিদের ষষ্ঠ ও টানা তৃতীয় হার। এই তিন ম্যাচেই দুশ করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। রাজ্জাক (৩/১৯) ও সোহাগ (৩/২১) ৩টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বড় জয় এনে দেন। এর আগে স্কটল্যান্ডকে ১৪৬ রানে হারিয়েছিল তারা। এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। প্রথম ওয়ানডেতে অর্ধশতক করা তামিম ইকবাল (৫) ও নাঈম (৬) দ্রুত বিদায় নিলে ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ১৭৯ বলে আনামুলের ১৭৪ রানের রেকর্ড জুটি স্বাগতিকদের ২ উইকেটে ১৯৫ রানের শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করায়। পাওয়ার প্লের প্রথম ওভারের (৩৬) চতুর্থ বলে রামপলের বলে পুল করতে গিয়ে সিমন্সের হাতে ধরা পড়ে মুশফিক (৭৯) বিদায় নিলে একটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মুশফিকের ৮৭ বলের ইনিংসটি ৮টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ। পাওয়ার প্লেতেই নাসির হোসেনকে (৪) গেইলের ক্যাচে পরিণত করে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেন রামপল। পঞ্চম উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে আনামুলের ৬৪ রানের জুটির সৌজন্যে আড়াইশ পেরুয় বাংলাদেশ। অভিষেকের পর প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট করার সুযোগ হয়নি মুমিনুলের। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো ব্যাট করতে নেমে ২৯ বলে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। এই জুটি গড়ার ফাঁকেই প্রথম ওয়ানডে শতকে পৌঁছান ম্যাচসেরা আনামুল (১২০)। তার ১৪৫ বলের ইনিংসটি ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো। ৪৯ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মুমিনুল-আনামুলকে সাজঘরে ফিরিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট নেন রামপল। ৪৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার। এটি তার ৭২ ম্যাচের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। দুই ‘সেট’ ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও ৯ বলে মাশরাফি বিন মুর্তজা (১৮*) ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের (৩*) অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটি স্বাগতিকদের তিনশ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২৯২/৬ (তামিম ৫, আনামুল ১২০, নাঈম ৬, মুশফিক ৭৯, নাসির ৪, মুমিনুল ৩১, মাহমুদুল্লাহ ৩*, মাশরাফি ১৮*; রামপল ৫/৪৯, রাসেল ১/৫৮) ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৩২ (সিমন্স ৯, গেইল ১৫, ব্রাভো ২৮, স্যামুয়েলস ১৬, স্মিথ ০, পোলার্ড ২৫, থমাস ০, স্যামি ১২, রাসেল ৯, সুনীল ১০, রামপল ০*; রাজ্জাক ৩/২১, সোহাগ ৩/১৯, মাশরাফি ১/২৬, মাহমুদুল্লাহ ১/২৭, নাঈম ১/২৮) -----------উজ্জ্বল///////

2012-12-02

বিদ্যুতে আরো সাশ্রয়ী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরো সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার কেরানীগঞ্জের চর গলগলিয়ার আবদুল্লাহপুরে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করব, আর ঢালাওভাবে খরচ হবে- এটা তো ঠিক না।” দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “বিদ্যুতের খরচ এখন অনেক। তারপরও আমাদের কেন ভতুর্কি দিতে হবে? সাশ্রয়ী হতে হবে- যেন বিদ্যুত বিল কম আসে।” মালয়েশিয়াভিত্তিক মুতিয়ারা কনসোলিডেটেড এসএনবি বিএইচডি এবং বাংলাদেশের শিকদার গ্রুপের পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংসের যৌথ কোম্পানি কেরানীগঞ্জের এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী সকালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী এই ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “রক্ত দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কেরানীগঞ্জের অনেক অবদান আছে।” আওয়ামী লীগ এর আগে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরাই প্রথম বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতিমালা প্রণয়ন করি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হই। সিস্টেম লস কমিয়ে আনি।” “এরপর ২০০৯ সালে এসে দেখি বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে নেমে গেছে”, বলেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ায় এবং তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হাতে নেওয়ায় বর্তমানে দেশে বিদ্যৎ উৎপাদনের সামর্থ্য ৮ হাজার ৪২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। “আমরা পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সংস্কার করি। দ্রুত চাহিদা পূরণে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেই।” আর এর ফলেই সম্প্রতি রেকর্ড ৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত চার বছরে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫৮ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সেবার আতওায় রয়েছে। “আমরা চাহিদা মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। এর সঙ্গে দিনে দুই ঘণ্টা লোড শেডিং হচ্ছে।” তৃণমূল পর্যায়ে যেসব স্থানে এখনো বিদ্যুত যায়নি- সেসব স্থানে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-৩ আসনের সাংসদ নসরুল হামিদ বিপু এই ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটা জাতীয় গ্রিডে না দিয়ে ২৫ মেগাওয়াট কেরানীগঞ্জে দেয়ার আহ্বান জানান। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- যে এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে, সে এলাকার মানুষ অগ্রাধিকার পাবে।” স্থানীয় সাংসদ ও আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে জানান, ওই এলাকায় কোনো সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বা কলেজও নেই। তার এ বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে সরকার প্রধান বলেন, “প্রদীপের নিচেই অন্ধকার। ঢাকার এতো কাছে, অথচ এখানে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় আর কলেজ নেই!” আওয়ামী লীগ আগামীবার ক্ষমতায় এলে চর গলগলিয়ার আবদুল্লাহপুরে বিদ্যালয় ও কলেজ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে ফায়ার স্টেশন করার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফায়ার স্টেশন হবে। তবে আমার একটা অনুরোধ ফায়ার সার্ভিস যেন আগুন নেভানোর পানি পায়।” স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে কোনো পরিকল্পনা করলে যেন জলাধার থাকে- সে দিকে একান্তভাবে নজর রাখবেন।” আগামীতে সব সেতু ও রাস্তা টোলভিত্তিক করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গরীব শ্রমিক আর কৃষকরা কাজ করবে আর আমরা শুধু গাড়িতে চড়ব? আগামীতে সব রাস্তা ও সেতুতে টোল দিতে হবে।” অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়া, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং শিদকার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক শিকদার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিদ্যুৎ বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব খান। সাত দশমিক ১১ একর জমির ওপর এই ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে ২০১০ সালের জুলাই মাসে পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারার সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। গত বছর মার্চে এই কেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় চলতি বছর মার্চে। -----------উজ্জ্বল///////

2012-12-02

ডেসটিনির সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

পাচারের দুটি মামলায় ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এবং এর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জহুরুল হক মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ডেসটিনি গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় দায়ের করা দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২১ নভেম্বর কোম্পানি ও তিন আসামির সম্পত্তি জব্দের আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক ডেসটিনি গ্রুপ এবং এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন ও তার স্ত্রী ফারাহ দীবার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দুটি দুদক দায়ের করে করে। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্লান্টেশেন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ পাচারের ‘প্রমাণ’ পেয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি করেন। এর আগে গত ২ অক্টোবর দুদকের আবেদনে ডেসটিনি কর্মকর্তাদের ৫৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দেয় একই আদালত। ----উজ্জ্বল//////

2012-11-27

পদ্মা প্রকল্পে ‘দুর্নীতির তথ্য’ পেয়েছে দুদক

দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজ পেতে ‘ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্র’ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার এক বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথমবারের মতো এ ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা জানাল তদন্তের দায়িত্বে থাকা এ সংস্থা। গোলাম রহমান মঙ্গলবার কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করেছে। আমাদের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা এ তথ্য পেয়েছেন।” “সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, ডালমে কুছ কালা হ্যায়”, বলেন দুদক চেয়ারম্যান। পদ্মা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত জুনে ১২০ কোটি ডলারের ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। তবে সরকারের তৎপরতায় ‘শর্তসাপেক্ষে’ এ প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয় বহুজাতিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি। এর আগেই সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও সাবেক সেতু সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়াসহ মোট ২৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা গত ১ অক্টোবর বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারকে দেয়া শর্ত অনুযায়ী দুটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। সে অনুযায়ী দুর্নীতির বিষয়ে বাংলাদেশের তদন্ত অবাধ ও পূর্ণাঙ্গভাবে হচ্ছে কি না তা মূল্যায়ন করতে প্রথম দলটি গত ১৬ অক্টোবর ঢাকা ঘুরে গেছে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কৌশল ঠিক করতে বিশ্ব ব্যাংকের আরেকটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরে আসার ক্ষেত্রে অন্যান্য শর্তের সঙ্গে প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমানকে ছুটিতে পাঠানোর কথাও বলে বিশ্ব ব্যাংক। এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর মসিউর ছুটিতে যাওয়ার তিন দিন পর বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে ফিরে আসার কথা জানায়। এরপর গত ১ নভেম্বর মসিউর আবারো কাজে যোগ দিলে তাতে বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে আলোচনা ওঠে। সে সময় মসিউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন, তিনি ছুটি শেষে কাজে যোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ভিয়েতনাম সফর শেষে দেশে ফিরে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ীই কাজ করবেন। গত ৪ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে দীর্ঘ ছুটিতে যেতেও তার আপত্তি নেই। ----উজ্জ্বল//////

2012-11-27

শ্রমিক নিরাপত্তায়ও নজর দিন: প্রধানমন্ত্রী

আশুলিয়ার মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য সজাগ থাকার পাশাপাশি শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাজধানীতে টেক্সটাইল পণ্যের প্রদর্শনী টেক্সবাংলা-২০১২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুন এবং চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ভেঙে হতাহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বক্তব্যের শুরুতেই আশুলিয়া ও চট্টগ্রামে নিহতদের স্মরণে একদিনের জাতীয় শোক পালনের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দুই ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সরকার প্রধান বলেন, “তদন্ত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” গত শনিবার আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশনসে ওই ভয়াবহ আগুনে ১১০ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘দুঃখজনক ও অনাকাক্সিক্ষত’ হিসাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই ঘটনা যেন আগামীতে না ঘটে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। এ রকম ঘটনা অতীতেও ঘটেছিল।” “অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল”, বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সংসদে এ বিষয়ে অনির্ধারিত আলোচনায়ও আশুলিয়ার ঘটনাকে নাশকতা হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা টেক্সবাংলার অনুষ্ঠানে কারখানা মালিকদের উদ্দেশে বলেন, “এদিকে আপনাদের আরেকটু দৃষ্টি দিতে হবে। শ্রমিকদের আরো প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এখন উন্মুক্ত বিশ্ব, প্রতিযোগিতা করে বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হবে।” পানির উৎস নষ্ট না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “এবার আগুন নেভাতে পানির অভাব হয়েছিল। আশুলিয়ার মতো জায়গায় পানি পাওয়া যায়নি- এর থেকে দুঃখজনক কী হতে পারে।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, “আমাদের সজাগ থাকতে হবে। যখন যে খাতে প্রসার ঘটে তখন শত্রু বাড়ে। একটি প্রতিষ্ঠানের দরজা নেই বলে মানুষ মারা গেলো- তা নয়। এর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র আছে।” অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডের পক্ষ থেকে আলাদা তদন্ত কমিটি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দলকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ----উজ্জ্বল//////

2012-11-27

নাশকতায় দায়ীদের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দলকে সঙ্গে নিয়ে তাজরিন ফ্যাশনসের পোড়া ভবনে যান এবং নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা ঘুরে দেখেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটা নাশকতা। প্রধানমন্ত্রীও ইতোমধ্যে বলেছেন, এটা নাশকতা।” “এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে আমরা বদ্ধপরিকর”, বলেন মন্ত্রী। শনিবার রাতে তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১০ জনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের পক্ষ থেকেও আলাদা কমিটি করা হয়েছে। প্রাণহানির ঘটনায় সোমবার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশনসে আগুন পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছিল। রামুতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, পুলিশের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং পোশাক কারখানায় আগুনের ঘটনা একসূত্রে গাঁথা বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে নাশকতার কথা বলা হচ্ছে জানতে চাইলে তাজরিন কারখানায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তদন্তেই সব বেরিয়ে আসবে” আশুলিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের আর কোথও অন্য কোনো শিল্প কারখানায় যাতে ‘এ রকম’ ঘটনা না ঘটে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে বলেন মন্ত্রী। কোনো কারখানায় যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখার তাগিদ দেন। এক প্রশ্নের জবাবে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, সব কারখানায় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে সকালেই আশুলিয়ার এই কারখানা পরিদর্শনে আসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান, পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ওই কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকরা অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের ধাওয় করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর আগে বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক সাভারের জামগড়া থেকে কালো পতাকা হাতে মিছিল করে নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশনসের সামনে দিয়ে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডে যায়। এ সময় মিছিলকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’, ‘অত্যাচারীর কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি শ্লোগান দেন এবং তাজরিনে অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান। ----উজ্জ্বল//////

2012-11-27

চট্টগ্রামে নিহত ১৩, তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট জংশনে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের (ফ্লাইওভার) গার্ডার ভেঙে ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ রোববার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সূত্র নিহত হওয়ার এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনা তদন্তে আজ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খালেক মামুন চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরও আটজনের লাশ উদ্ধার করেছে। আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন। এই নয়জন এবং গতকাল উদ্ধার করা চারজনসহ নিহত ব্যক্তির সংখ্যা মোট দাঁড়াল ১৩। এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। উত্তেজিত লোকজন মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এর আধা ঘণ্টা পরেই মন্ত্রী সেনাসদস্যদের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মন্ত্রী ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনজুর মোরশেদ এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল উড়ালসড়কটির তিনটি গার্ডার ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের কাজে ব্যবহূত একটিসহ আটটি গাড়ি ও একটি জেনারেটর এবং ঠিকাদারের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর মধ্যে প্রথম আলোর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হামিদউল্লাহর একটি মোটরসাইকেলও রয়েছে। বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাষ্ট্রপতি ও খালেদা জিয়ার শোক বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। আজ এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিত্সা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে আহত ব্যক্তিদের আশু সুস্থতা কামনা করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া অবিলম্বে গার্ডারের নিচে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিত্সার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। এ ছাড়া, নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার কেন বিধ্বস্ত হলো, তার কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত দল গঠন করে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আগেও ভেঙেছে গার্ডার পাঁচ মাস আগে গত ২৯ জুন চান্দগাঁও থানা ভবনের সামনে এ উড়ালসড়কের দুটি পিলারের মাঝামাঝি একটি গার্ডার ভেঙে পড়ে। ওই দিন জুমার নামাজের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাস্তায় তখন মানুষের চলাচল কম ছিল। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বহদ্দারহাট জংশনে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের মার্চ থেকে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। উড়ালসড়কটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৩৩২ কিলোমিটার আর প্রস্থ ১৪ মিটার বা ৪৬ ফুট। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ১০৬ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার-পারিসা (জেভি) উড়ালসড়কটি নির্মাণ করছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘দুটি পিলারের সংযোগ সৃষ্টিকারী গার্ডারগুলোর মধ্যে ক্রস গার্ডার (লোহার রড দিয়ে সংযোগ) দিতে হয়। ক্রস গার্ডারের কাজ শেষ করার আগে ওজন ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা দরকার ছিল। এটির তা ছিল না বলে মনে হচ্ছে। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমার ধারণা।’ ---------উজ্জ্বল/////

2012-11-25

কারখানায় পুড়ে লাশ হলো ২২৪ শ্রমিক

আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আজ রোববার এ পর্যন্ত ১২৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে আগুন লাগে। আজ রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। গতকাল রাত দেড়টা পর্যন্ত আগুনে পুড়ে নয়জন পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। তখন থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ১১৫ পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুব জানান, কারখানার তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় আরও ১১৫টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ পাওয়া যায় তৃতীয় তলায়। তিনি আরও জানান, আগুনে পুড়ে মৃতদেহগুলোর অধিকাংশই বিকৃত হয়ে গেছে। সকালে লাশ বের করতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করে নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় তারা পুলিশ ও কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন সাভার সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল সৈয়দ হাসান সোহরাওয়ার্দী। তিনি জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলো স্থানীয় নিশ্চিন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে মৃতদেহ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিজিএমইএ নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিজিএমইএর আশুলিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী জাহানারা আকতার এ কথা জানান। ---------উজ্জ্বল/////

2012-11-25

‘মূল পরিকল্পনাকারী’ আমির গ্রেপ্তার

রাজধানী ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে ছয় বছর বয়সী শিশু পরাগ মণ্ডল অপহরণের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ আমির আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল শুক্রবার গভীর রাতে টঙ্গী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমির ১৬ নভেম্বর থেকে টঙ্গীর মুদাফা এলাকার তিলারগাতি সিংবাড়ি রোডে সৌদিপ্রবাসী মো. মনিরের বাসায় ভাড়া আছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গতকাল রাতে সেখানে অভিযান চালায়। আমিরের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ বাড়িটি ঘিরে ফেলে। বাসার দরজা খুলতে বললেও খোলেননি আমির। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় দরজা ভাঙতে গেলে ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে আমির দরজা খুলেই পুলিশকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়েন। পুলিশ, এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে আমির মাথার বাম দিকে কানের কাছে ও বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহিন শেখের নেতৃত্বে আহত আমিরকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শামসুননাহার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শনিবার সকালে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, আমিরের কাছ থেকে দুটি পিস্তল ও ৮৫টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আমিরের স্ত্রী বিউটিকে আটক করেছে পুলিশ। বাড়ির মালিকের স্ত্রী রানু বলেন, রাতে গোলাগুলির শব্দে তাঁর ঘুম ভাঙে। দরজা খুলে তিনি দেখতে পান পাশের রুমে রক্তাক্ত অবস্থায় আমির পড়ে আছেন। পুলিশ বাড়ি ঘিরে রেখেছে। আমির তাঁদের পূর্বপরিচিত ছিলেন না বলে তিনি দাবি করেন। টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন আমিরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেন আরও জানান, শিশু পরাগ মণ্ডল অপহরণের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অপহরণের মামলা করা হয়। মামলাটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও তদন্ত শুরু করে। অপহরণের পর আমির আলী তাঁর কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায় ডিবি পুলিশ। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিম পাড়ার বাসার সামনে থেকে ১১ নভেম্বর সকালে মা লিপি মণ্ডল, বোন পিনাকী মণ্ডল ও গাড়িচালক নজরুল ইসলামকে গুলি করে শিশু পরাগকে অপহরণ করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর তিন দিন পর ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে করে এনে প্রায় অচেতন অবস্থায় পরাগকে রেখে চলে যায় অপহরণকারীরা। রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২২ নভেম্বর বিকেলে পরাগ সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যায়। শিশু পরাগ অপহরণের ঘটনায় এ নিয়ে মোট ১১ জন গ্রেপ্তার হলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন অপরাধ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।------------উজ্জ্বল////////////////

2012-11-24

দেশের উন্নয়নে স্কাউটদের দায়িত্ব নেওয়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: দেশের উন্নয়নের ভার কাঁধে নিতে প্রস্তুত হওয়ার জন্য স্কাউটদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এসময় যুবকদের জাতির ভবিষ্যৎ বলেও উল্লেখ করেন। শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দু’দিনব্যাপী ২৪তম এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল স্কাউট সম্মেলনের উদ্বোধনকালে তিনি এ আহবান জানান। জ্যেষ্ঠরা যে দায়িত্ব পালন করছেন তা রপ্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী স্কাউটদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, আমি দেখতে চাই তোমরা খুব শিগগিরই এ অবস্থানে ‍এসেছ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ওয়ার্ল্ড স্কাউট কমিটির চেয়ারম্যান সিমন হাং-বচ রি, বাংলাদেশ স্কাউটের প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল করিম, বাংলাদেশ স্কাউটের প্রধান জাতীয় কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ ও সম্মেলন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হাবিবুল আলম বীর প্রতীক। অনুষ্ঠানে ফিলিপাইনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও এশিয়া প্যাসিফিক স্কাউটের চেয়ারম্যান জেজোমার সি বিনয়ের একটি বিবৃতি স্কাউটদের পড়ে শোনানো হয়। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে স্কাউটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা আমাদের লক্ষ্য’। দারিদ্র্য দূর করার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে স্কাউটদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার আহবান জানান তিনি। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় স্কাউট সদস্যদের আরও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান। স্কাউটিং তাঁর প্রিয় সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কাউটিং এর মাধ্যমে ছোটবেলা থেকে ছেলেমেয়েরা ধাপে ধাপে আত্মনির্ভরশীল এবং সেবার ব্রত নিয়ে বেড়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘স্কাউটরা প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে প্রায়োগিক শিক্ষা গ্রহণ করে এবং যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দেশের জন্য দায়িত্ব পালনে তারা অগ্রবর্তী স্বেচ্ছাসেবী দল হিসেবে এগিয়ে আসে।’ শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজেও যখন সুযোগ পান, তখনই স্কাউটিংকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। দেশে বর্তমানে ১১ লাখ ৬৪ হাজার স্কাউট সদস্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছর স্কাউটদের এই সংখ্যা হবে ১৫ লাখ।------------উজ্জ্বল///////////////

2012-11-24

পাট গবেষণায় সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট গবেষণায় নিয়োজিত সব বিজ্ঞানীকে তার সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, তারা এই অর্থকরি ফসলের সারা বছর ধরে উৎপাদন উপযোগী খরা, লবণাক্ততা ও শীত সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বিজ্ঞানীরা পাটের বংশগতির বিন্যাস (জেনোম সিকোয়েন্স) উদ্ভাবন করায় আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, তারা উচ্চ ফলনশীল ও বালাই প্রতিরোধক এবং সারা বছর ধরে উৎপাদন উপযোগী পাটের জাত উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন।” তিনি মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাট বীজ এবং আধুনিক পাট জাগ (পচন) পদ্ধতি’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার পাট ও পাটজাত পণ্যকে দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করতে পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও আধুনিক পাট শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার ব্যাপক বেড়ে যাওয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই আশাব্যাঞ্জক।’ কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম আশরাফুল মকবুল। পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. এম কামালউদ্দিন সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এছাড়া পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক এম নাসির উদ্দিন ও ‘উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাট বীজ এবং আধুনিক পাট জাগ (পচন) পদ্ধতি’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মঙ্গল সি চন্দ অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ১৯৮২ সাল থেকে ৩০ বছর পর ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে এই প্রথমবারের মতো ২০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকালে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মিলগুলোর উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো ৩৫৭ টন, কিন্তু বর্তমানে তা ৭শ’ টনে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ উন্নতমানের পাট উৎপাদনে ঊর্বর জমি ও অনুকূল আবহাওয়ায় সমৃদ্ধ হওয়ায় এই তন্তু আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই ঐতিহ্যকে টেকসই করতে এবং এই অর্থকরী ফসলের উন্নয়নে বর্তমান সরকার ১৬৯ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে- উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ ছাড়াও উন্নতজাতের পাটের বীজ দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং পাটজাগ (রিবন রেটিং) পদ্ধতিসহ উচ্চ প্রযুক্তির পাটজাগ সম্পর্কিত পঞ্চবার্ষিক প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ নির্বাচিত হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। দেশের পাটখাতের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাটখাতের সার্বিক বিকাশের লক্ষে পৃথক পাট মন্ত্রণালয় স্থাপন ও পাটকলগুলোকে জাতীয়করণ করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটের উন্নয়নে অনেক কর্মসূচি নেয়া হয়।------উজ্জ্বল///////////

2012-11-20

পাট গবেষণায় সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট গবেষণায় নিয়োজিত সব বিজ্ঞানীকে তার সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, তারা এই অর্থকরি ফসলের সারা বছর ধরে উৎপাদন উপযোগী খরা, লবণাক্ততা ও শীত সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বিজ্ঞানীরা পাটের বংশগতির বিন্যাস (জেনোম সিকোয়েন্স) উদ্ভাবন করায় আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, তারা উচ্চ ফলনশীল ও বালাই প্রতিরোধক এবং সারা বছর ধরে উৎপাদন উপযোগী পাটের জাত উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন।” তিনি মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাট বীজ এবং আধুনিক পাট জাগ (পচন) পদ্ধতি’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার পাট ও পাটজাত পণ্যকে দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করতে পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও আধুনিক পাট শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার ব্যাপক বেড়ে যাওয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই আশাব্যাঞ্জক।’ কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম আশরাফুল মকবুল। পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. এম কামালউদ্দিন সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এছাড়া পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক এম নাসির উদ্দিন ও ‘উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাট বীজ এবং আধুনিক পাট জাগ (পচন) পদ্ধতি’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মঙ্গল সি চন্দ অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ১৯৮২ সাল থেকে ৩০ বছর পর ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে এই প্রথমবারের মতো ২০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকালে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মিলগুলোর উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো ৩৫৭ টন, কিন্তু বর্তমানে তা ৭শ’ টনে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ উন্নতমানের পাট উৎপাদনে ঊর্বর জমি ও অনুকূল আবহাওয়ায় সমৃদ্ধ হওয়ায় এই তন্তু আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই ঐতিহ্যকে টেকসই করতে এবং এই অর্থকরী ফসলের উন্নয়নে বর্তমান সরকার ১৬৯ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে- উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ ছাড়াও উন্নতজাতের পাটের বীজ দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং পাটজাগ (রিবন রেটিং) পদ্ধতিসহ উচ্চ প্রযুক্তির পাটজাগ সম্পর্কিত পঞ্চবার্ষিক প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ নির্বাচিত হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। দেশের পাটখাতের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাটখাতের সার্বিক বিকাশের লক্ষে পৃথক পাট মন্ত্রণালয় স্থাপন ও পাটকলগুলোকে জাতীয়করণ করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটের উন্নয়নে অনেক কর্মসূচি নেয়া হয়।------উজ্জ্বল///////////

2012-11-20

দুর্নীতির সঙ্গে তারেক রহমানের কোনো সম্পর্ক ছিল না : খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘‘তারেক রহমানের সঙ্গে দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারেক সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে মঈন-ফখরুদ্দিনের সরকার তাকে নির্যাতন চালিয়েছে।’’ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভবিষ্যত ও তারেক রহমান প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। তারেক রহমান এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নয় বলেও জানান তিনি। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৪৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ছাত্রদল। লন্ডনে চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যথাসময়ে তারেক রহমান যাতে দেশে ফিরে আসতে পারেন সেজন্য তার জন্মদিনে আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই।’’ সন্তানের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘দলে যোগদানের পর থেকেই তারেক তৃণমূল থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেন। ছাত্র, যুবক ও কৃষকের পাশে গিয়ে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। সে কারণেই ষড়যন্ত্রকারীরা তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার শুরু করে।’’ তারেক রহমান দেশে ফিরে এসে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারলে বিএনপি ও দেশ উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বললেও তারেক রহমান অনেক আগ থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেন বলে জানান খালেদা। ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, সুর্প্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, সুকোমল বড়ুয়া প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আববাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান পটল প্রমুখ। আলোচনা সভার মাঝখানে জন্মদিনের কেক কাটেন খালেদা জিয়া। পরে চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। ক, খ ও গ এ তিনটি শাখায় ১৫০ জনের মতো প্রতিযোগী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতি শাখায় ১ম, ২য় ও ৩য় হিসাবে ৯টি পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া সবাইকে সৌজন্য পুরস্কার দেয়া হয়। পরে দর্শক সারিতে বসে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন খালেদা জিয়া।---------উজ্জ্বল///////////

2012-11-20

টিআই সদর দফতরে অভিযোগ পাঠাবে সরকার

জার্মানির বার্লিনে ট্রাসপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) সদর দফতরে টিআইবি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পাঠাবে সরকার। সংসদ সদস্যদের নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে ‘বস্তুনিষ্ঠ’ প্রতিবেদন তৈরির জন্য বলা হবে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে মো. শাহরিয়ার আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা জানিয়েছেন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, “ট্রাসপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জার্মানির সদর দফতরে আমরা, তথ্য উপাত্তবিহীন দুর্বল প্রতিবেদন দিয়ে জাতীয় সংসদকে অবমাননা করার কারণ জানতে চাইবো। একই সঙ্গে এটি সংশোধন করে ‘বস্তুনিষ্ঠ’ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বলবো।” “আমরা বলবো প্রতিবেদনটি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি” বলেন ইনু। জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) রয়েছে উল্লেখ করেন তিনি। ইসরাফিল আলমের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সংসদ সদস্যদের অবমাননা করে ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা স্পিকারই সিদ্ধান্ত নেবেন।” এর আগে শাহরিয়ার আলমের প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, “সঠিক উপাত্ত পাওয়া এবং তার মাধ্যমে যথাযথ সাধারণীকরণের (জেনারালাইজেশন) জন্য যে ধরনের নমুনায়ন পদ্ধতি সচরাচর ব্যবহার করা হয়ে থাকে তা না করে সুবিধাজনক নমুনায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে টিআইবি। যা প্রতিনিধিত্বশীল ফলাফল উৎপাদন করে না।” তিনি আরো বলেন, “সুবিধাজনক নমুনায়ন গবেষণায় ব্যবহার করা হলেও গবেষকরা বলে থাকেন এতে পক্ষপাতমূলক ফলাফল আসতে পারে। টিআইবি যে মন্তব্য করেছে তা দু:খজনক।” তিনি বলেন, “টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনটি সরকারের বিরুদ্ধে নয়। এটি সংসদের ওপর।” তিনি বলেন, “বিগত ১৪ অক্টোবর তারিখে টিআইবির ‘‘নবম সংসদ-সদস্যদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা পর্যালোচনা’’ শীর্ষক প্রতিবিদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর ৩১টি বিষয়ে স্পষ্ট করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে টিআিইবিকে অনুরোধ জানানো হয়। তারা ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে।” মন্ত্রী বলেন, “টিআইবির এই আলোচিত গবেষণা কাজটিতে সামাজিক গবেষণায় অনুসৃত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়বস্ত যে ধরনের পদ্ধতি প্রয়োজন সে ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ না করেই টিআইবি পূর্বধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সুবিধামত পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।” হাসানুল হক ইনু আরো বলেন, মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে সার্বিকভাবে গবেষণা কাজটি সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক ধারণার ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত হয়েছে বলে মনে হয়। গবেষণায় একটি নেতিবাচক ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত ভেবে, ইচ্ছামত উত্তরদাতা নির্বাচন করে, সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক নির্দেশক প্রশ্নমালার অধীনে পরিচালিত করে, একটি সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়েছে। অনেক প্রশ্নেরই যথাযথ উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ সম্পর্কে গবেষণার ক্ষেত্রে প্রশ্নাতীত দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা, বৈজ্ঞানিক রীতি পদ্ধতির কঠোর অনুসরণ অবশ্য পালনীয় বিষয়।” শাহরিয়ার আলমের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরো বলেন, “সমাজের বিভিন্ন মহল ও গোষ্ঠীর মধ্যে দুর্নীতিবাজ থাকা সত্ত্বেও তাদের বাইরে রেখে কেবল রাজনীতিবিদদের ঢালাওভাবে দুর্নীতিবাজ বলা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। টিআইবিও সেই ফ্যাশন অনুসরণ করে সংসদ সদস্যদের নিয়ে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তারা সংসদ সদস্যদের হেয় এবং এই মহান সংসদকে খাটো করেছে।” ইনু বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ঠিক তখনই টিআইবি এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাদের রিপোর্টে এমন কোনো তথ্য নেই যার আলোকে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তারা পূর্ব ধারনার একটি দুর্বল দেশবাসীর সামনে হাজির করেছি। রিপোর্ট দেখে আমি হতাশ হয়েছি। মন্ত্রী বলেন, দেশে ৩২০টি নিবন্ধিত পত্রিকা থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৫টি পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে তারা প্রতিবেদন করেছে। যেখানে দেশের সর্বাধিক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন ও আমাদের সময়’ পত্রিকা নেই। তারা কেন, কোন মাপকাঠীতে ওই ৫টি পত্রিকাকে তথ্যের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। টিআইবি ‘সচেতন নাগরিক’-এর কথা বলেছে কিন্তু ওই সচেতন নাগরিকের কোনো সংজ্ঞা তারা দিতে পারেনি। তথাকথিত সতেচন নাগরিকের কথা বলে তারা দেশের সাধারণ জনগণকে অপমান করেছে। আমি এর নিন্দা জানাই।” তিনি বলেন, “সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) নামে টিআইবির একটি সংগঠন আছে। যেসব জেলায় তাদের এই সনাকের কমিটি আছে সেইসব জেলাতেই তারা এই জরিপ পরিচালনা করেছে।” তিনি বলেন, “১৪৯ জন সংসদ সদসদের নিয়ে টিআইবির এই রিপোর্ট প্রকাশের পরদিন সব পত্রিকা ফলাওভাবে প্রকাশ করেছে যে ৯৭ ভাগ সংসদ সদস্য দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু টিআইবি ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানাইনি। জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হোক তারা এটাই চেয়েছে।” ফজিলাতুননেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, “টিআইবির বিষয়ে সরকারের কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সঠিক উপাত্তের ভিত্তিতে গবেষকরা কাজ করবেন এই আহ্বান জানাচ্ছি।” সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, “গণমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পেরেছি টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন- সংসদ সদস্যরা ওই প্রতিবেদনটি বুঝতে পারেনি। তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে।”----------উজ্জ্বল///////////

2012-11-20

টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় আইন অনুমোদন

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট আইন, ২০১২- এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশার‍রাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, টেলিভিশনের অনষ্ঠান ও সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘‘চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে কর্মরত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এটাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা। সরকার বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের উন্নয়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ আইন অনুযায়ী চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন বরেণ্য ব্যক্তি এ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান হবেন। ইনস্টিটিউট পরিচালনার একটি কাউন্সিল থাকবে। একজন যুগ্ম-সচিব এ কাউন্সিলের প্রধান হবেন। তিনি ইনস্টিটিউট পরিচালনা করবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এ প্রতিষ্ঠানে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।---------উজ্জ্বল////////////////

2012-11-19

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বাড়াবাড়ি করলে শরিয়া আইনে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বাড়াবাড়ি না করার আহবান জানিয়ে বলেছেন, বাড়াবাড়ি করে লাভ হবেনা। বিচার বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজনে বিচার আরও দ্রুত করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য যারা বাড়াবাড়ি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শরিয়া আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, কারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করছে, কি উদ্দেশে করছে এটা সবাই জানে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য এই খেলা বন্ধ করতে হবে। পরাজিত শক্তির দোষররা জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলা করবে তা বরদাস্ত করা হবে না। যারা বাড়াবাড়ি করছে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থ্যা নিতে হয় তা জানা আছে। শরীয়া আইনেও বলা আছে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিয়াস তো আছেই। আমি বিরোধী দলীয় নেত্রী, জামায়াতে ইসলামীসহ সকলকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। এটা করে লাভ হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করা যাবে না। জাতির দাবি অনুযায়ী আমরা যুদ্ধারাধীদের বিচার করছি। এ বিচার কেউই বন্ধ করতে পারবে না। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের যে দিন রায় হবে সে দিন বিএনপি হরতাল ডেকেছিল। তারা চেয়েছিল বিচারক যাতে আদালতে যেতে না পারে, মামলার রায় যাতে না দিতে পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ঠেকাতে পারেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও বন্ধ করতে পারবে না। বিরোধীদলীয় নেত্রীকে বলব এই খেলা বন্ধ করুন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামুর বৌদ্ধ প্যাগোডায় হামলা ছিলো পরিকল্লিত। এ ধরনের নানা ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশ যে সাম্প্রদায়িক সম্পতির দেশ তা নষ্ট করার চেষ্টা হবে। আর কে বা কারা এটা করবে তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। এ জন্য দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামুর ঘটনার পর আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। ২০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রয়েছে।বিরোধী দলীয় নেত্রী সেখানে কী নিয়ে গিয়েছিলেন। চীন গেলেন, ভারত গেলেন। বিশ¡ ভ্রমণ করে ঘটনার ৪৪দিন পর সেখানে গেলেন। উনি কী দিয়ে এলেন। কিছুই দিয়ে আসতে পারেননি। দিয়ে এসেছেন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু উস্কানিমুলক মিথ্যা বক্তব্য। তিনি আরও বলেন, আসলে উনার তো দেওয়ার কিছুই নেই। উনারা ক্ষমতায় আসেন দুর্নীতি আর লুটপাট করে টাকা কামাতে। উনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। উনার ছেলেদের দুর্নীতি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এখন উনি উচু গলায় আমাদের দুর্নীতির কথা বলেন। আমাদের বিরুদ্ধে উনি যখন দুনীতির কথা বলেন তখন একটা কথাই উঠে আসে-চোরের মায়ের বড় গলা। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের মঙ্গা নেই। ‘মঙ্গা’ শব্দটি এখন উঠে গেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট ও উচ্চ মস্তিস্কের তত্ত্বাবধায়ক সরকারও মঙ্গা দূর করতে পারেনি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর মঙ্গা দূর করেছি। এখন যে মঙ্গ‍া নেই এই বিষয়টা পত্র-পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও মধ্যরাতের টকশোতে বলা হলে খুশি হতাম। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কার্যনির্বাহী সংসদের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।------্-----উজ্জ্বল/////

2012-11-16

পরাগ অপহরণের ঘটনায় আরও ৬ জন আটক

পরাগ অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ ও জুরাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব-১০ এর কেরানীগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন মাহফুজ জানান, বুধবার রাতভর এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- আলী রিফাত (১৯), জাহিদুল হাসান (১৮), কালাচান (৩৫), রিজভি আহমেদ অনিক (১৮), আলফাজ (১৮) ও আবুল কাশেম (৩৫)। এদের মধ্যে রিফাত, জাহিদুল ও কালাচান এ অপহরণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এর আগে বুধবার ভোরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকা থেকে মামুন (৪২) নামে পরাগ অপহরণ মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। ....................রিয়াদ...................

2012-11-15

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সমস্যায় পরিণত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতিতে ধর্মের যোগ বা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এরইমধ্যে একটি রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ফরিদুন্নাহার লাইলীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি রামুর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস নিয়ে প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাবে শেখা হাসিনা বলেন, “১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক অবাঞ্ছিত/অশুভ মত-পথের সংযোজন হতে থাকে। রাজনীতিতে ধর্মের যোগ বা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এরইমধ্যেই এক রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় রাজনৈতিক উন্মাদনার মধ্যে নিহিত থাকা সাম্প্রদায়িক বীজ মাথাচাড়া দেবে সেটাই স্বাভাবিক।” একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী রামুর ঘটনার পরে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, “দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকল পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি পুলিশসহ বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।” মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে দেশের শিল্প উন্নয়ন ও বিকাশে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিল্প আইন এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্প নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এছাড়া খসড়া ট্রেড মার্কস রুলস-২০১২, খসড়া পেটেন্ট আইন-২০১২, খসড়া ডিজাইন আইন-২০১২ ও খসড়া জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশনস (জিআই) অ্যাক্ট-২০১২ প্রণয়নের কাজ চলছে।” আগামী বছরে বেসরকারি খাতে থ্রি-জি নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “গত ১৪ অক্টোবর টেলিটকের থ্রি-জি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক ব্যবহার উদ্বোধন করা হয়েছে। বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে থ্রি-জি/ ফোর-জি/ লং টার্ম ইভোল্যুশন লাইসন্সে দেওয়ার লক্ষ্যে এরইমধ্যে বিভিন্ন অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে লাইসেন্সিং গাইডলাইন তৈরির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। আগামী বছরের প্রথমার্ধে বেসরকারি অপারটেরদের থ্রি-জি লাইসেন্স প্রদান সম্ভব হবে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, থ্রি-জি লাইসেন্সের পরপরই ফোর-জি/লং টার্ম ইভোল্যুশন লাইসেন্স প্রদানের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। শহিদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখার জন্য ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে। এদিকে সাধনা হালদারে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত জুন-জুলাই মাসে ‘ফুড প্রাইস ইনডেক্স উর্ধ্বমুখী হওয়া এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য বিশেষ করে গমের উৎপাদন সম্ভাবনা হ্রাস সংক্রান্ত পূর্বাভাসের ভিত্তিতে জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও) কর্তৃক বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিলো।” শেখ হাসিনা আরো বলেন, “তবে পরবর্তী পূর্বাভাসগুলোতে হাল-নাগাদ তথ্যাদির ভিত্তিতে খাদ্যশস্যের মূল্য বিশেষত: চালের মূল্য স্থিতিশীল থাকাসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্তোষজনক খাদ্য মজুদ থাকায় বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।” ----------উজ্জ্বল//////

2012-11-14

পরাগকে ফিরে পেল পরিবার

৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর ছাড়া পেল অপহূত ছয় বছরের শিশু পরাগ মণ্ডল। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার মিল এলাকায় তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এরপর শিশুটির বাবা বিমল মণ্ডল তাকে উদ্ধার করে রাতেই রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পরাগ সুস্থ আছে। র‌্যাব গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, রাজধানীর একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এ অপহরণের সঙ্গে জড়িত। কিছুদিন আগে সে জেল থেকে ছাড়া পায়। টাকার জন্য সে শিশুটিকে অপহরণ করে। এ চক্রে ছয়-সাতজন জড়িত। অপহরণকারীরা শিশুটির বাবার কাছে প্রথম দুই কোটি টাকা দাবি করে। পরে এটা কমিয়ে তারা এক কোটি টাকা চায়। সর্বশেষ গতকাল রাতে ৫০ লাখ টাকায় রফা হয়। র‌্যাব ও পুলিশ জানায়, অপহরণকারী দলটিকে তারা শনাক্ত করেছে। এরা পেশাদার সন্ত্রাসী। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা থেকে আরও জানা যায়, সন্ত্রাসীদের কথামতো রাতেই ৫০ লাখ টাকা নিয়ে শিশুটির বাবা প্রথমে আমিনবাজার পার হয়ে তুরাগ সেতুর কাছে যান। সেখান থেকে তাঁকে মুগরার বাজারের আওয়াল মার্কেটের কাছে যেতে বলা হয়। ওই সময় তিনি একটি ব্যাগে করে টাকা নিয়ে একটি কাঁচা রাস্তায় ঢুকে পড়েন। এরপর রাস্তায় মোবাইলের আলো ফেলে কিছুদূর যাওয়ার পর দুজন সন্ত্রাসী এসে পেছন থেকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে যায়। এর ২০-২৫ মিনিট পরে বিমলকে ফোন করে বছিলা সেতু পার হয়ে আঁটিবাজারে যেতে বলে অপহরণকারীরা। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, অপহরণকারীরা রাত ১২টার দিকে শিশুটিকে রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। এরপর আঁটিবাজার মিল এলাকার একজন নিরাপত্তাকর্মী ছেলেটির খোঁজ পান। তিনি শিশুটিকে বসিয়ে রাখেন। এরপর শিশুটির বাবাসহ পরিবারের লোকজন গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, কিছুদিন ধরে সন্ত্রাসীরা এ পরিবারের কাউকে অপহরণের চেষ্টা করে আসছিল। তারা পরাগকে অপহরণের পরিকল্পনার পর থেকে সেখানে কালাচান নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ করে। এ জন্য তাকে চার লাখ টাকা দেওয়া হয়। শিশুটি কীভাবে, কখন তার মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাতায়াত করত, এসব তথ্য কালাচান সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেয়। তবে শিশুটি অপহূত হওয়ার পর থেকে কালাচানের আর খোঁজ নেই। রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটিকে সম্ভবত ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তার দুই চোখ ঢুলুঢুলু। স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর জানান, সে ভালো আছে, ঘুমাচ্ছে। গত রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার বাসার অন্তত ৫০ গজ দূরে গলির মুখে বোন পিনাকি মণ্ডলের পায়ে ও মা লিপি মণ্ডলের বুকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছোট্ট পরাগকে। পিনাকি চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছে। আর মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা লিপির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। পরাগ সদরঘাটের হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে কেজি ওয়ানের ছাত্র। পিনাকিও ওই স্কুলে পড়ে। মানববন্ধন: গতকাল সকালে সদরঘাটে হিড ইন্টারন্যশনাল স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য মানববন্ধন করে। এ সময় পরাগের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখ ভিজে যায়। এদিকে শিশু পরাগকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন একজন আইনজীবী ----------উজ্জ্বল//////

2012-11-14

এপ্রিল-মে মাসে চার সিটি নির্বাচন: শাহনেওয়াজ

আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসেই চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সোমবার ইসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “নিয়ম অনুয়ায়ী মেয়াদ শেষ হলেই এ চার সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।” নির্বাচন হতে যাওয়া সিটি কর্পোরেশনগুলো হলো- খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট। ২০১৩ সালকে নির্বাচনের বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ চার সিটির নির্বাচনের মাধ্যমে ইসি তার পুরো বছরের নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে চায়।” এছাড়া আসন্ন টাঙ্গাইল-৩ উপনির্বাচন ও নবগঠিত রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইসি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি। শাহনেওয়াজ বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে ইসি কোনো শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না।” -------উজ্জ্বল///////

2012-11-12

‘জামায়াতকে নিয়ে খালেদার কৌতুক’

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে ‘কৌতুক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব-উল আলম হানিফ। তিনি সোমবার ঢাকায় জামায়াতবিরোধী এক সমাবেশে বলেছেন, “এর চাইতে বড় হাস্যকর ও কৌতুক বাংলাদেশে আর হতে পারে না। মানসিক বিকারগ্রস্তের মতো কথা বলছেন তিনি (খালেদা)।” বিএনপি চেয়ারপারসন রোববার কক্সবাজারে এক সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে পাশে চাচ্ছে। জামায়াত বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটে রয়েছে। ১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিলেও পরে তারা বিরোধিতায় নামে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তোলে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গঠন হলে তাতে জামায়াত যোগ দেয়। ওই জোটই সম্প্রসারিত হয়ে এখন ১৮ দলীয় জোট হয়েছে। হানিফ বলেন, “ক্ষমতার লোভে বেগম জিয়া মরিয়া। যে কারণেই উনি এখন লাগামহীন মিথ্যাাচার করছেন। আসলে বেগম জিয়া কখন কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানে না।” আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ (দক্ষিণ) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন। জামাত-শিবিরের অব্যাহত ‘সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি’তে এই সমাবেশ হয়। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, “আপনি তো আপনরা দলকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসাবে দাবি করেন। তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ ছেড়ে তাদের বিচারের জন্য সরকারকে সহায়তা করে প্রমাণ করুন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল।” সমাবেশে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের অপতৎপরতা চলছে। তাদেরকে ছাড় না দেয়া যাবে না। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দীন নাসিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাউছার, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে জিপিও মোড় এবং পল্টন মোড় হয়ে আবার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। -----উজ্জ্বল/////

2012-11-12

জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার গ্রেফতার

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাবেক এই সংসদ সদস্যকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জামায়াতের এই নেতাকে মতিঝিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করতেই মিথ্যা মামলায় গোলাম পরোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” সরকার দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে অভিযোগ করে তিনি জামায়াত নেতাকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান। ------উজ্জ্বল//////

2012-11-12

বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যাত্রা শুরু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও লাওসের প্রধানমন্ত্রী থংসিঙ থামাভংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়েছে। আজ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, বৈঠককালে দুই প্রধানমন্ত্রী মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য দুরীকরণ, শিক্ষা, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানে পরস্পরকে সহযোগিতা করতে সম্মত হন। শেখ হাসিনা লাওস সফরে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য থামাভংকে এবং মনোরম ভিয়েনতিয়েন নগরীতে তাঁকে ও তাঁর সফরসঙ্গীদের লাওস সরকার ও দেশটির জনগণের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। লাওসে বাংলাদেশের কোন সরকার প্রধানের এই প্রথম সফর। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এ সফর দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, লাওসে তাঁর সফর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে লাওস ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অপর দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের লক্ষ্য পূরণ করবে। লাওসের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সাথে চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শৃংখলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি নারী ও যুব সমাজের উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্রঋণ খাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। থামাভং বলেন, লাওস সরকার এ দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। লাওস প্রধানমন্ত্রী যতদ্রুত সম্ভব ঢাকা সফরে শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস ও লাওসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা এখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। পরে দু’দেশের কর্মকর্তারা দু’দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের ভিসার প্রয়োজনীয়তা উঠিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দু’দেশের কর্মকর্তারা পারস্পরিক স্বার্থে ভবিষ্যতে দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে সম্মত হন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং লাওসের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থংলুন সিসুলিথ দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাওসের প্রেসিডেন্ট চুম্মালি সেয়াসোনের সঙ্গে তার বাসভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। শেখ হাসিনা লাওসের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারা দু’দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী লাওসের প্রেসিডেন্টকে বলেন, লাওস বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স, শিক্ষক, আইটি বিশেষজ্ঞ, অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং কৃষি ও নির্মাণ শিল্পের জন্য জনবল নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৪ নভেম্বর নবম এশিয়া-ইউরোপ মিটিং সামিট (এএসইএম৯)-এ যোগ দিতে এখানে পৌঁছেন। সূত্র: বাসস-----------উজ্জ্বল//////////////

2012-11-07

ওবামা আবার নির্বাচিত

সব জল্পনা কল্পনা শেষ করে আবার পুননির্বাচিত হয়েছেন বারাক ওবামা। গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রমনির চেয়ে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সিবিএস, এনবিসি, সিএনএন ও বিবিসি এরই মধ্যে ওবামা প্রয়োজনীয় ২৭০টির বেশি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে গেছেন বলে ঘোষণা করেছে। অর্থনীতি নিয়ে মার্কিনিদের দীর্ঘমেয়াদী অসন্তোষ আর নির্বাচনের ঠিক আগে রমনির কঠিন চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে হোয়াইট হাউজে আবার চার বছরের জন্য গেলেন ওবামা। ফ্লোরিডার ফল হাতে আসার আগে ওবামা পেয়েছেন ৩০৩টি ইলেকটোরাল ভোট। রমনি পেয়েছেন ২০৬টি। অনেক রাজ্যের ভোটের পুরো ফল হাতে আসার আগেই প্রেসিডেন্ট নির্ধারক ‘দোদুল্যমান’ রাজ্যগুলোর প্রায় সবকটিতে ওবামা জেতায় বা এগিয়ে থাকায় আগেভাগেই ওবামাকে জয়ী ঘোষণা করা গেছে। তাই ভোটের পুরো ফল আসার আগেই পরাজয় মেনে নিয়ে ওবামাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রমনি। বিশ্ব নেতারাও ওবামাকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। উইসকনসিন, আইওয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার আর ওহাইওতে ওবামা জিতে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটান। অন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, নেভাডা আর কোলারাডোর ফল তখনও আসা বাকি। বাকি রাজ্যগুলো এমনকি বাকি ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ এর ফল নিয়ে কোনো গুরুত্ব না থাকায় ওবামাকে একে একে জয়ী হিসেবে ঘোষণা করে সিএনএন, রয়টার্স, সিবিএস ও বিবিসি। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক রাজ্যের নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট থাকে। কোনো রাজ্যে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সে রাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোটই তার বাক্সে যায়। মোট ভোটের হিসেবে কিন্তু সমান-সমানে রয়েছেন ওবামা আর রমনি, যদিও নির্বাচনের ফলে এর তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। ভোট গোনা শুরু হওয়ার পর ডেমক্রেট অধুষ্যিত রাজ্যগুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আইওয়া, পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, মিনাসোটা ও উইসকনসিনে ওবামা এগিয়ে থাকায় বোঝা যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র আগামী চার বছরের জন্য নতুন কোনো প্রেসিডেন্ট দেখছে না। ওহাইওতে অল্প ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পরপরই ওবামার বিজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। রমনি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাটিগুলোতে জয়ী হওয়ার পাশপাশি ২০০৮ সালে ওবামার জেতা নর্থ ক্যারোলিনা আর ইন্ডিয়ানাও ছিনিয়ে নেন। কিন্তু ‘ব্যাটেলগ্রাউন্ডগুলোতে’ পিছিয়ে পড়ায় আরাধ্য ২৭০টি ভোটের বাধা তিনি আর পেরোতে পারেননি। ওহাইওতে পিছিয়ে পড়ার পর তার হার মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায়। ৫০টি রাজ্য আর ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া জুড়ে একে একে ভোট শেষ হতে থাকলেও ‘ব্যাটেলগ্রাউন্ড’ বা ‘দোদুল্যমান’ হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি রাজ্যেই ছিল সবার নজর। ভোটযুদ্ধে অনিশ্চয়তা এনে দেওয়া এই রাজ্যগুলো ফ্লোরিডা, ওহাইও, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন, কলোরাডো, নেভাডা, আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের বেশিরভাগেই ‘এক্সিট পোলে’ এগিয়ে ছিলেন ওবামা। যে প্রার্থী ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে কমপক্ষে ২৭০টি পাবেন, শেষ বিচারে তিনিই হন বিজয়ী। তাই রাজ্যগুলো থেকে গণনাকৃত ভোটের হিসেব আসার সঙ্গে সঙ্গে ইলেকটোরাল ভোটের মানচিত্র সাজিয়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গণমাধ্যমগুলো। কোনো রাজ্যের আংশিক ভোট গণানার ফল এলেও ওবামা আর রমনির ভোটের অনুপাত দেখে রাজ্যটির ফল কার পক্ষে যাবে তা আগেভাইে বলে দিয়েছে তারা। আর অনেক আগে থেকেই কিছু রাজ্য ডেমক্রেট ও আর কিছু রাজ্য রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে থাকায় সেগুলোর ইলেকটোরাল ভোট আগেই ফলাফলের মানচিত্রে উঠিয়ে রেখেছিল গণমাধ্যমগুলো। যেমন সবচেয়ে বড় ইলেকটোরাল কলেজ ক্যালিফোর্নিয়ার ভোট (৫৫) ওবামার ঝুড়িতেই যে যাচ্ছে, তা মোটামুটি ধরে নিয়েছে সব শিবির। অন্যদিকে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যার হিসেবে দ্বিতীয় টেক্সাস (৩৮) ঐতিহাসিকভাবেই রিপাবলিকানদের বলে মানচিত্রে তা রমনিকেই বিজয়ী ধরা হয়। যে রাজ্যেগুলো ঐতিহাসিকভাবে কোনো দলের পক্ষে সবসময় যায় না বা গত নির্বাচনগুলোতে যেগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে সেগুলোকেই ‘দোদুল্যমান’ ধরা হয়েছিল। তাই ভোটযুদ্ধে অনিশ্চয়তা এনে দেওয়া ফ্লোরিডা (২৯), ওহাইও (১৮), ভার্জিনিয়া (১৩), উইসকনসিন (১০), কলোরাডো (৯), নেভাডা (৬), আইওয়া (৬) ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের (৪) দিকেই নজর ছিল গণমাধ্যমগুলোর। নিউ হ্যাম্পশায়ার, উইসকনসিন ও আইওয়ার পর ওহাইওতেও ওবামা এগিয়ে গেলে গণমাধ্যমগুলোর জন্য ওবামাকে জয়ী ঘোষণা করাটা ‘নিরাপদ’ হয়ে যায়, দ্রুতই শেষ হয়ে যায় ফল নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনা। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বুথফেরত জরিপে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গিয়েছিল প্রধান দুই প্রার্থী ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনির মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হতে শুরু করে (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টা)। কিন্তু পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে ভোট শেষ হওয়ার আগেই পূর্বের প্রাথমিক ফল ঘোষণা শুরু হয়ে যায়। মঙ্গলবারের নির্বাচনে মার্কিন সিনেটের ১০০টি আসনের এক-তৃতীয়াংশের ভোট হয়। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেও ভোটাভুটি হয়। প্রতিনিধি পরিষদে পূর্বাভাস মতোই জিতেছে রিপাবলিকানরা। আর ডেমোক্রেটরা সিনেটে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পেরেছেন। ওবামা আর রমনি নির্বাচনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ করেছেন যার বেশিরভাগই খরচ হয়েছে ‘দোদুল্যমান’ রাজ্যগুলোতে।----------উজ্জ্বল//////////

2012-11-07

জেল হত্যার পুনর্বিচার দাবি আওয়ামী লীগের

ঢাকা, ৩ নভেম্বর: দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেল হত্যার পুনর্বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকর করতে আদালতের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বিচার শেষ করে আইনের মাধ্যমে চূড়ান্ত দণ্ড ঘোষণা করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে। শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘জাতির কলঙ্কমোচন ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে জেল হত্যার পুনর্বিচার ও খুনিদের ফাঁসি চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এ আহবান জানান। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শহীদ এম মুনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সতিশ চন্দ্র রায়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘‘জাতির জনককে হত্যার পর বার বার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে আঘাত হানা হয়েছে। পরাজিত শক্তি দেশের স্বার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে।’’ জেল হত্যাও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরের সমালোচনা করে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘‘আজকে তারা (বিরোধী দল) মুখে যাই বলুক, অন্তরে বিশ্বাস করেন অন্য। তারা কোনোদিনই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ছাড়তে পারবেন না।’’ বিরোধী দলের নেত্রীকে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বলেন, ‘‘আপনারা বিদেশের প্রভূর কাছে ক্ষমা না চেয়ে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চান। দেশের জনগণের কাছে স্বীকার করুন আপনি এতদিন ভুল রাজনীতি করেছেন।’’ তিনি বলেন, বিদেশী প্রভুর কাছে ক্ষমা চেয়ে কোনো লাভ হবে না। কারণ ক্ষমতায় বসানোর মালিক দেশের জনগণ। দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে আছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি কোনো দিন আপনার সাথে যাবে না।’’ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেল খানায় জাতীয় চারনেতা হত্যার দায় কোনোভাবেই জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়া এড়াতে পারেন না।’’ তিনি বলেন, ‘‘জিয়া ও খালেদা জিয়া যে জড়িত তার উদাহরণ ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনি কর্নেল রশিদকে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিল।’’ দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিচার করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা হয়েছে। জেল হত্যার পুনর্বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করা হবে। বিরোধী দলীয় নেত্রী বিদেশ সফরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি বিদেশে ঘোরার সময় পান, রামুতে যাওয়ার সময় পান না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ নজরুল ইসলামের ছেরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। আমাদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের সুসর্ম্পক আছে। ভারতীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাথে আওয়ামী লীগের ভালো সর্ম্পক রয়েছে বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যে সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘‘শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রতিটি গণমনা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সর্ম্পক ভালো।’’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তাদের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক রয়েছে বলেই আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা।’’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সময়েই বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক ছিল। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। আশরাফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম শুধু মাত্র নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসার জন্য নয়। দেশের জনগণের কল্যাণের জনই আওয়ামী লীগের জন্ম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে আওয়ামী লীগের সুসর্ম্পক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে একটি নির্দেশনা তুলে ধরা হবে। ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কিছু কিছু লোক রয়েছে যারা জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন। বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন ৭১ সালে। আর ঐক্য নষ্ট হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে। তিনি বলেন, আমরাও ঐক্যে বিশ্বাস করি। আমরা ভিন্ন মতের রাজনীতি করতে পারি। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে কোনো বিভেদ নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এখন যদি রমনি প্রেসিডেন্ট হয়, তাহলে বারাক স্বাগত জানাবে। জাতীয় ঐক্যর ক্ষেত্রে তাদের কোনো বিভেদ নেই। বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি আশরাফ বলেন, যদি জাতীয় ঐক্য চান তাহলে ১৫ আগস্টের দিন জন্মদিন পালন বিরত থেকে অন্যদিন পালন করুন। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ বা অন্যদিন পালন করে প্রমাণ করুন আপনি জাতীয় ঐক্য চান। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য শোকের দিন। আর একটি গোষ্ঠী এইদিনটিতে উল্লাস করে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার কলঙ্কমোচন হয়েছে। আজ জেল হত্যার কলঙ্কমোচন করা হোক, জাতি এটাই চায়। সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের বলবো ন্যায় বিচার করুন। জিয়াউর রহমান, বেগম জিয়া, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বার বার ক্ষমতায় থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পুনর্বাসন করেছেন। তিনি বলেন, আমরা বাবা হারানো শোকে কষ্ট পাই। কিন্তু গর্ববোধ করি আমরা শহীদ পরিবারের সন্তান। কোনো বেঈমানের সন্তান না। মির্জাফরের সন্তানের কোনো গর্ব নেই। শহীদের সন্তানের গর্ব করার আছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘‘জেল হত্যা ষড়যন্ত্রের কোনো ক্ষুদ্র অংশ ছিল না। এটা ছিল ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতারই অংশ। পুথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে আর বড় কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা জানা নেই।’’ বর্তমান সরকারের মেয়াদেই জেল হত্যার বিচার করা হবে বলে জানান তিনি। জেল হত্যার দিন জাতীয় চারনেতার সঙ্গে জেলখানায় বন্দী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘‘এখনো ৩ নভেম্বর এরে আমার কাছে মনে হয় কোয়ামতের রাত। জীবন্ত অবস্থায় সেদিন কেয়ামত দেখেছি।’’ শহীদ তাজউদ্দিনের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি তার বাবার স্মৃতিচারণ করেন। এসময় হলরুমে সুনশান নীরবতা নেমে আসে। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক নুহে আলম লেলিন ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।-----------উজ্জ্বল///////////

2012-11-03

তদন্ত ও পদ্মা সেতুর কাজ চলতে পারে একইসঙ্গে: গোল্ডস্টেইন

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত ও প্রকল্প বাস্তবায়ন একই সঙ্গে চলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান এলেন গোল্ডস্টেইন। তবে তিনি বলেছেন, পুরো বিষয়টি বিশেষজ্ঞদলের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এলেন গোল্ডস্টেইন বলেন, “আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে বিশেষজ্ঞ প্যানেল সদস্যরা আবারো বাংলাদেশে আসবেন। প্রাথমিক সফরে তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে বাংলাদেশের আইন মেনে প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে তথ্য চেয়েছেন।” পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দুদককে পরামর্শ দেয়ার কথাও জানান তিনি। এছাড়া এলেন জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রতিনিধি দল শিগগির বাংলাদেশ সফর করবেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল তাদের তিন দিনের ঢাকা সফর শেষে গত মঙ্গলবার ফিরে গেছে। এ প্রকল্পে দুর্নীতিসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্বব্যাংক প্যানেলকে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক গত জুনে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন প্রত্যাহার করে। সম্প্রতি ব্যাংক তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে। তবে অর্থায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দুর্নীতির ওই অভিযোগ তদন্তের গ্রহণযোগ্যতার ওপর। ------উজ্জ্বল///////

2012-10-21

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন ড. কামাল ও বি চৌধুরী

সুখী, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক এবং অগ্রসরমান বাংলাদেশের প্রত্যাশায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়তে জোট গঠনের লক্ষ্যে রোববার বিকেলে রাজধানীর অভিজাত হোটেল রেডিসনে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এই দুই নেতা যৌথভাবে দেশবাসীর প্রতি এ ঐক্যের আহ্বান জানান। ড. কামাল হোসেন জোট প্রসঙ্গে বলেন, “জোট হতে পারে সমমনা দলের ভিত্তিতে অথবা তিন দফার ভিত্তিতে।” অন্যদিকে ডা. বি চৌধুরী বলেন, “আমাদের শত্রু হচ্ছে কিছু লোভী রাজনীতিবিদ, অসৎ ব্যবসায়ী এবং লোভী আমলা। এরা দেশকে এগিয়ে নিতে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। আমাদের জেগে উঠতে হবে। শত্রুমিত্র চিনতে হবে।” সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হেসেন বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বলেন, ‘‘দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ঐক্যের রাজনীতি।’’------উজ্জ্বল///////

2012-10-21

শক্তিশালী গণগ্রন্থাগার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশে শক্তিশালী গণগ্রন্থাগার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের দু’দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, “আমরা সংরক্ষণ ব্যবস্থা ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রন্থাগার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে গবেষণা সহজ হবে এবং পেশাদারিত্বের মানোন্নয়ন ঘটবে।” বাংলাদেশ লাইব্রেরিয়ান্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিলারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহ-সভাপতি কাজী আব্দুল মাজেদ, মহাসচিব ড. মিজানুর রহমান এবং গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক নাফিজ জামান শুভ বক্তৃতা করেন। শেখ হাসিনা জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে হিসেবে দেশব্যাপী গ্রন্থাগারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখার জন্য সমাজের সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আপনাদের অর্জিত অর্থের একটি অংশ এলক্ষ্যে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করার সরকারি উদ্যোগে সহযোগিতা করুন।” তিনি বলেন, তার সরকার দেশের গ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। গ্রন্থাগারগুলো ডিজিটাইজড করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে জ্ঞানপিপাসুরা আরো সহজে তাদের পাঠচাহিদা মেটাতে পারবেন। এছাড়া গ্রন্থাগারের অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি গণগ্রন্থাগারগুলোর নিজস্ব ভবন এবং ৪৫টি জেলায় পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত গণগ্রন্থাগার স্থাপনের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এখানে পাঠকরা অনলাইন সার্ভিসের সুবিধা পাবেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের তথ্যসেবা প্রদানে ব্লাইন্ড সেন্টার খোলা হয়েছে। একটি ডিজিটাল ডিপোজিটোরি তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। এসঙ্গে দেশের সব বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৮ হাজার সহকারী লাইব্রিয়ানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের প্রণীত আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষানীতিতে গ্রন্থাগার ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ওপর গুরত্বারোপ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস----উজ্জ্বল/////

2012-10-17

বিশ্বব্যাংক প্রমাণ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক প্রমাণ দিলেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে। বুধবার সচিবালয়ে অর্থনীতিসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “দুদক মামলা করার জন্য প্রস্তুত। বিশ্বব্যাংককে তারা এ কথা জানিয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রমাণ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ লাগতে পারে।” মন্ত্রী বলেন, “আমরা চেয়েছি পদ্মা সেতু প্রকল্পের তদন্ত ও বাস্তবায়ন একসঙ্গে চলতে। কিন্তু একসঙ্গে চলবে কি না-সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নই আমি। তবে এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী। বিশ্বব্যাংকের দ্বিতীয় দলটি ঢাকায় এলে এ বিষয়টি জানা যাবে।” সম্প্রতি জাপানে বিশ্বব্যাংকের সাধারণ সভায় যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া হলমার্কের ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘুম দেরিতে ভেঙেছে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “২০১০ সালেই হলমার্কের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনেছিল। ২০১১ সালে তারা কিছুই করেনি। ২০১২ সালে তারা জেগে উঠল। এতে প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে অতটা সক্ষম নয়।” মুহিত বলেন, “রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। শুধু পর্ষদটা আমরা গঠন করে দিই।” আইএমএফ’র বর্ধিত ঋণসুবিধার দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ আগামী নভেম্বরে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, জাপানে আইএমএফের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। সেখানে মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে দর-কষাকষি হয়। এগুলো হলো: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, মূসক আইন প্রণয়ন ও পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের হার। অর্থমন্ত্রী বলেন, “মূসক আইন যা হওয়ার কথা, তা হয়ে যাবে। এতে কোনো সমস্যা হবে না। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের সার্বিক বিনিয়োগের হার আইএমএফ চায় ২৫ শতাংশ। আমরা বলেছি, এটা ৪০ শতাংশ; তবে আস্তে আস্তে তা কমিয়ে আনা হবে।”----উজ্জ্বল/////

2012-10-17

আবারো এক-এগারোর আশঙ্কা শেখ হাসিনার

আবারো এক-এগারোর আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে কিছু কিছু লোক আছেন, যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ আছে, কিন্তু নির্বাচন করার সাহস নেই। তারা জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারেন না। কারণ জনগণের ওপর তাদের আস্থা নেই। তারাই অসাংবিধানিক সরকার চান।” শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতার খায়েশধারীদের কারণে বার বার দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তারা বার বার অসাংবিধানিক ব্যবস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ভালো সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন, কিভাবে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আরো রাখা যায়, সে ফতোয়ো দিয়েছিলেন। তারাই এখন সেচ্চার। আমার কেন যেন মনে হয় আবারো সেই ১/১১ সৃষ্টি চেষ্টা চলছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়া খায়েশধারীরা জনগণকে ভয় পায় বলেই নির্বাচনে আসতে চান না। কারণ জনগণের ওপর তাদের আস্থা নেই।” জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে, আমাদের ওপরও জগণের আস্থা আছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “ফতেয়াবাজরা তো অসাংবিধানিক সরকার চাবেন। কারণ এসব ফতোয়বাজরা সাংবিধানিক সরকারের সময়ে মূল্য পান না। অসাংবিধানিক সরকার এলে তাদের মূল্য বাড়ে। সে কারণে তারা অসাংবিধানিক সরকার চায়।” প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, “আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামের মানুষ পাচ্ছেন। শুধু পাচ্ছেন না কিছু লোক।” প্রধানমন্ত্রী টকশো’কে ইঙ্গিত করে বলেন, “যারা টকশো করেন তারা চোখে চোখে কালো চশমা পড়েন। তারা সরকারের কোনো উন্নয়ন দেখতে পান না। মধ্যরাতে জেগে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন তারা। রাত জেগে শুধু নাই নাই নাই করছেন।” দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির এ বৈঠকে প্রায় সব সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, আব্দুর জলিল, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি প্রমুখ। ------উজ্জ্বল

2012-10-13

প্রতিশোধ নিলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকতো না: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। প্রতিশোধ নিলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকতো না।” ২০০১-০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের ওপর অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, “২০০১-০৬ বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হত্যা, অত্যাচার, নির্যাতন, সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। দেশের অর্থ লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাঁচার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার কারণেই দেশের উন্নয়ন হয়নি।” বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাজবাড়ী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে এ সভা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির প্রতিহিংসার প্রতিশোধ নিলে তাদের অস্তিত্ব আজ খুজে পাওয়া যেত না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। রামুর বৌদ্ধ বিহারে ঘটনায় সঠিক তদন্ত না করে কাউকে দোষী করা ঠিক নয়, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের সমালোচনা করে করে তিনি বলেন, “বিরোধী দলীয় নেত্রীর এ বোধোদয় তখন কোথায় ছিল? যখন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে বলে দিলেন আওয়ামী লীগ জড়িত।” শেখ হাসিনা বলেন, বৌদ্ধ বিহারের এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও প্রশাসনের লোকজন, বৌদ্ধদের সাথে করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে। বিএনপির স্থানীয় সংসদকে দায়ী করে তিনি বলেন, এ ঘটনা ঘটার আগে স্থানীয় বিএনপির এমপি এসেছিলেন। সঙ্গে বেশ কয়েকটি হোন্ডাও ছিল, সে হোন্ডায় তিনজন করে মানুষ। বৌদ্ধ বিহারে যখন আগুন জ্বলে তখন সাংসদ বাসায় ছিলেন কেন? রোম যখন পোড়ে নীরু তখন বাঁশি বাজায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। টকশোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগে জানতাম মানুষ মধ্যরাত জাগে সিধকাটার জন্য। এখন রাত জাগে আমাদের(রাজনীতিবিদের) গলা কাটার জন্য। তারা রাতজেগে টকশোর নামে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।” সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেউ এমন আছে তত্ত্বাবধায়কের উপদেষ্টা ছিলেন, নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন। সরকারের পদে ছিলেন, নিয়ম ভঙ্গ করে অনিয়মও করেছেন। তারাই আবার আমাদের সবক দেন।” আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “তারা(টকশোর ব্যক্তিরা) আমাদের কাছে এসে পদের জন্য কত কান্নাকাটি করেছেন, আমরা হয়তো দয়া করে দিয়েও দিয়েছি, তাদেরই এখন সবক শুনতে হয়।” বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন জনগণের সামনে তুলে ধরতে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের সরকারের সকল উন্নয়ন জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।” আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক টেলিভিশন ও পত্রিকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে উল্লেখ তিনি বলেন, “মিডিয়া চালাবে কারা, যাদের অনেক টাকা পয়সা আছে, ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেক চাহিদা থাকে। জনগণের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে তাদের(মিডিয়া মালিকদের) চাহিদা পূরণ করতে না পারলে তারা বেজার হন এবং আমাদের বিরুদ্ধে অনেক কথাই লেখেন।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এত কিছুর পরও আওয়ামী লীগ উজানে নাও বেয়ে সাফল্য এনেছে। নানা প্রতিকূলতা ঠেলে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, জাতিকে সামনের দিকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “সব জায়গাতেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা দরকার।” সভায় দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন, দলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় সদস্য এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।------উজ্জ্বল//////

2012-10-11

ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডি কারাগারে

মুদ্রা পাচারের দুই মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি ২০০০-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ দায়রা জজ আদালতে শুনানি শেষে বিচারক মো. জহুরুল হক এ আদেশ দেন । ডেসটিনির শীর্ষ ওই তিন কর্মকর্তা সকাল ১০টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এগারটা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লা হীরু এবং এহসানুল হক সমাজী তাদের জামিন আবেদনে বলেন, “চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমাজের সম্মানিত ব্যবসায়ী। ডেসটিনির মাল্টিপারপাস ও ট্রি প্লান্টেশন কোম্পানি কোনো প্রকারের সমবায় আইন লঙ্ঘন করেনি উল্লেখ করে তারা বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের জামিন দেয়া হোক। আইনজীবী সমাজী বলেন, “যদি আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন তবে সবার কাছে প্রমাণিত হবে তারা দোষী। কিন্তু উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আছে, সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্তভাবে রায় হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা যাবে না।” ডেসটিনির ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় ৫৬ লাখ পরিবার না খেয়ে আছে উল্লেখ করে আইনজীবী হিরু বলেন, “ডেসটিনির কোনো গ্রাহক কী দুদককে বলেছে ‘তারা প্রতারিত হয়েছে? তবে কেন এবং কার ইশারায় লাখ লাখ লোককে না খেয়ে রাখা হচ্ছে’এমন প্রশ্ন তুলে হীরু বলেন, “অবশ্যই এর পেছনে কেউ একজন খেলছে। তারা কিসের স্বার্থ, কাদের স্বার্থে ডেসটিনিকে হয়রানি করছে?” হীরুর বক্তব্যের জবাবে দুদকের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, “আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে সরাসারি অভিযোগ করতে হয় না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমলযোগ্য অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা। ডেসটিনির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫৩৩টি ব্যাংক একাউন্টে টাকা আছে মাত্র ১৩ কোটি।” মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আহবান জানিয়ে কাজল বলেন, “অভিনব কায়দায় জনগণকে প্রতারিত করে ডেসিটনির এসব কর্মকর্তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেম দেন আদালত। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডেসটিনির বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারের দু’টি মামলায় জামিন বাতিলের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। যার ফলে ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার জামিন বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা পলাতক ছিলেন। গত ৬ আগস্ট মহানগর হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পন করে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনসহ ছয়জন জামিন নেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট দুদকের পক্ষ থেকে ডেসটিনির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার জামিনের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য (রিভিশন) ঢাকার বিশেষ জ্যেষ্ঠ জজ আদালতে আবেদন করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিশেষ জ্যেষ্ঠ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ড. আখতারুজ্জামান রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করেন। গত ১৩ আগস্ট আসামিপক্ষ ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জহুরুল হকের কাছে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। আদালত ওই আবেদন গ্রহণ করায় ভারপ্রাপ্ত বিচারকের আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর বিচারক শুনানির জন্য ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্ল্যানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়ে দু’টি মামলা দায়ের করেন। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দু’টি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ------উজ্জ্বল//////

2012-10-11

Aki Ballet Dance at Tokyo

Patuakhali Hospital

Beautifull Bangladesh

Report on RAJUK

To view specific date of news Select the date first then click

Total Visitors

Website counter

Latest News

Usefull Links